Showing posts with label Current Affair. Show all posts
Showing posts with label Current Affair. Show all posts

Friday, 30 November 2012

প্রবহমাণ-৮

১। রাজনৈতিক সমাবেশ নাকি জনগনের অতিষ্ট হবার উপকরণ? বিগত ১১ই জুন পল্টনে যে সমাবেশ হয়েছে তারই একটি চিত্র, যা আমার ছোট্ট মোবাইলের ৩.২ মেগাপিক্সেল ক্ষমতার চোখে ধরা পরেছে। ঢাকায় বিশেষ একটা থাকা হয়নি বলে আমার চোখে এর আগে কখনও এই রূপ ধরা পরেনি। আমার কাছে বেশ লাগছিল। সারা দিন ধরে ধীরে ধীরে লক জন আসছে, কেউ খবরের কাগজ কিংবা ক্যানভাস বিছিয়ে বসে বিড়ি সিগারেট টানছিল, কেউ পান চিবুচ্ছিল, চিনা বাদাম চিবুচ্ছিল গল্প করছিল আবার ওদিকে মুল মঞ্চ থেকে মাইল খানিক জুরে মাইকে নানান মূল্যবান বক্তব্য রাখছিল যাতে অসাধারন লোক জনের কানে তালা লাগছিল কিংবা বিরক্তি ছড়াচ্ছিলও বলা যায়। এদিক ওদিকে কিছু ছোট খাট বচসা কিংবা তর্কা তর্কি হচ্ছিল। আসে পাশের অফিসে বা বাসা বাড়িতে চরম রকমের বিরক্তি। সব মিলিয়ে বেশ সুন্দর একটা পরিবেশ। এমন সময়ে কখনও দেশে বা ঢাকায় থাকার সুযোগ হয়নি বলে এসব দেখার সৌভাগ্য হয়নি।দুপুরের পর থেকে এই গরমের মধ্যে রোদ মাথায় করে ঘামে ভিজে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল আসতে লাগল নানা দিক থেকে, আসছেতো আসছেই। এই দেখে ভাবলাম এই স্রোত যখন শেষ হবে তখন সেই স্রোতের উজান ঠেল্কে আমার পক্ষে বাড়ি ফেরা সম্ভব হবে না তাই ভয়ে আমি বিকেল চারটায় অফিস ছেড়ে ফিরে এলাম।- Probohoman-8 (1)
২। ব্যর্থতাই সফলতার সোপান নাকি সফলতা ব্যর্থতার সোপান! নিচের এই ছবিটি বেশ মজার, তাই না! এক জন শ্রমিক শ্রেনীর মানুষ তার বেচে থাকার জন্য, সামান্য খাদ্য আর একটু নিরাপদে ঘুমাবার জায়গার জন্য দাবী জানিয়েছে বলে রাষ্ট্রিয় ক্ষমতা কি ভাবে তার গায়ের সর্বশক্তি ব্যয় করে ছেলেটির মাথায় বাড়ি মারছে! এমনিতেই এই আধমরা ছেলেটিকে মারার জন্য কতটুকু শক্তির প্রয়োজন হয় বলতে পারেন? ছবিটি গত ১৭ই জুন প্রথম আলো পত্রিকার কভার পেজে এসেছে। অনেকেই দেখেছেন, আমিও দেখেছিলাম এবং এটা নিয়ে সময় পেলে একটা পোস্ট লিখব বলে কাগজটা নিরাপদে রেখেছিলাম। ছেলেটি কেন চাইল এক মুঠো খাবারের নিশ্চয়তা? এ কথা কাকে জিজ্ঞেস করব? তার মালিক পক্ষকে, নাকি দেশের কর্তাকে নাকি ছেলেটিকে নাকি নিজেকে কিছু বুঝতে পারছি না। এই ছবিটি এই ছেলের মা বাবা কিংবা ভাই বোন যারা এই ছেলের কাজের বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে কিছু চাল ডাল নয়ত শখের কিছু কেনাকাটা করে তারা কি দেখেছে? যদি দেখে থাকে তাহলে তাদের মনের অবস্থা কেমন হয়েছিল তা জানতে খুব ইচ্ছা করে কিন্তু কোথায় পাব তাদের? মিল বা কল কারখানা করে মালিক তার পরের বছরেই কিন্তু আরেকটি মিল করে ফেলে, সাথে গাড়ি বা বাড়ির কথা বললাম না কিন্তু যারা তার মিলে কাজ করে তাকে এই অর্থ যোগার করে দিয়েছে তাকে কেন এই সর্ব শক্তি দিয়ে মাথায় বাড়ি দেয়া হচ্ছে? সে দক্ষ কাজ করে তাকে উপরে উঠার সিড়ি তৈরী করে দিয়েছে এই কি তার অপরাধ? সে যখন অদক্ষ কর্মচারী হয়ে যে বেতনে ঢুকেছিল এখন তার দ্বিগুন বেতন পাচ্ছে না কেন? তার দক্ষতার সীমা মাত্রার মান দন্ডে পৌঁছেনি তাই? তাহলে তার মালিক কি করে বিশ্ব বাজার থেকে মুনাফা নিয়ে এল? কার শ্রমের ফসল সে ঘরে তুলে আনল? কার শ্রমের ফল দিয়ে এই মালিক তার নিজের সন্তান স্ত্রীর জন্য দামী পোষাক গহনা কিনে দিল? কার টাকায় সে তার পরিবার নিয়ে সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক থেকে বেড়িয়ে এল?
আসলে কোথায় যাচ্ছি আমরা? একটুও মানবিক বোধ কি আমাদের উদয় হবে না? আমরা উলটো স্রোতে ভেসে যাচ্ছি নাতো?
Probohoman-8 (4)
কিছু দিন আগের গার্মেন্টস মালিকেরা বুক ফুলিয়ে অত্যন্ত গর্ব এবং দর্পের সাথে আশুলিয়ার গার্মেন্টস কারখানা গুলি বন্ধ করে দিল। এতে শ্রমিকদের না তাদের না দেশের ক্ষতি হল? যিনি ছবিটি নিতে পেরেছেন তাকে জানাই ধন্যবাদ।
Probohoman-8 (5)
কারখানা খোলার পর যারা কাজ শুরু করেছে তাদের হাসি মুখের চেয়ে কি মালিকদের মুখের হাসির মূল্য বা লাভ কম? তাহলে মালিকদের এমন মধু মাখা হাসির ছবি কেন এল না? তাদের না খেয়ে মরার ভয় নেই বলে? নাকি তাদের এমন করে পুলিশের পিটুনি খাবার ভয় নেই বলে?
Probohoman-8 (6)
যে মালিক এই কারখানা চালু করে সম্পদের পাহাড়ে বসে সুরা আর সাকী নিয়ে ব্যস্ত জীবন কাটাবে তার হাসি ভরা ছবি কেন এলো না?
৩। গাড়ি চালানঃ সেদিন অফিসে যাবার পথে পল্টনে পৌছে দেখি একটা ট্রাকের মাথা মোড়ের এক দোকানের ভিতরে ঢুকে রয়েছে। আমাদের দেশের ড্রাইভারদের সে পেশাদার ড্রাইভার কিংবা মালিক স্বয়ং চালিত কারের ড্রাইভার যেই হোক না কেন সবারই এক মনোবৃত্তি, রাস্তাটা আমার। যারা রাস্তা দিয়ে হেটে চলে তারা আবার মানুষ নাকি? রাস্তার কোন নিয় শৃংখলা মানার কোন দায় দায়িত্ব নেই এগুলি দেখা্রও কেউ নেই।
Probohoman-8 (2)
তারপর দিন ট্রাক সরিয়ে নেয়ার পর দোকানটির দৃশ্য।
Probohoman-8 (3)
যে যেখানে আছেন সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। কারো জীবনে যেন এমন সব ঘটনার সন্মুখীন হতে না হয় তেমনি শুভ কামনা। সবার জন্য।

প্রবহমাণ-৭

প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে পৃথিবীর আনাচে কানাচে কত কি ঘটে যাচ্ছে সে খবর আমরা কতটুকুই বা রাখতে পারি! তারই যা আমার চোখে ধরা পরেছে তার কিছু এখানে তুলে দিলামঃ

১। অনেকেই নাম শুনেছেন আবার অনেকেই দেখেছেন এই নাগ চাঁপা কিংবা নাগেশ্বর। যে কোন চাঁপা ফুলই দেখতে সুন্দর যেমন দোলন চাঁপা বা স্বর্ণ চাঁপা কিংবা কাঠালি চাঁপা সে যাই হোক, চাঁপা হলেই হল। সেদিন সাবেক রেসকোর্সের মাঠ দিয়ে যাবার সময় দেখলাম গাছে গাছে ফুটে রয়েছে অসংখ্য নাগ চাপা। থমকে দাঁড়ালাম। অনেকক্ষণ ঘুড়ে ঘুড়ে দেখলাম। এই সেই নাগ চাপা যার ছবি নিচে দেখছেনঃ-
Photobucket

২। যত ঝড় ঝাপটা যাই আসুক প্রকৃতি কিন্তু থেমে নেই সে তার দৈনন্দিন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে অবিরত। কোন আলসেমি বা অনিয়ম তার নেই। তেমনি করে আমাদের জাতীয় ফল কাঠালের মুচি গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে। কয়েক দিন আগে ঢাকার কাছে ধামরাই এ আমার জন্মস্থান মামা বাড়ি গিয়েছিলাম, অনেক দিন পর। পুরনো স্মৃতি নিয়ে বাড়ির চারিদিকে ঘুড়ে দেখার সময় এই গাছটার নিচে এসে দাঁড়ালাম আর মন ভরে দেখলাম প্রকৃতির খেলা, এই মুচি আর ক’দিন বাদেই হয়ে উঠবে সুস্বাদু ফলেঃ-
Photobucket
৩। আমাদের তিলোত্তমা এই ঢাকা শহরে প্রতিদিন কত কি ঘটন অঘটন ঘটে চলেছে তারই একটা নমুনা রাস্তা খোরা খুরি। আশে পাশে দিয়ে কি করে মানুষজন চলাফেরা করবে সেদিকে কারো কোন খেয়াল নেই। যারা এই শহরে বসবাস করেন তারা প্রতিনিয়তই এসব দেখে আসছেন তবুও আর একটি দেখুনঃ-
Photobucket
৪। এই ঢাকা শহরের আরো একটি অবাক দৃশ্য। এক বয়স্ক ভদ্রলোক এই ভাবে বাঁশের পায়ে কি করে ফকিরা পুলের পাশের ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে নির্দ্বিধায় অত্যন্ত নিখুঁত ভাবে হেটে যাচ্ছেনঃ-
Photobucket
৫। আর একটি দৃশ্য, এই ভদ্রলোক ভাগ্যের পরিহাসে নির্মম দুর্ঘটনায় পরে পঙ্গু হয়ে এই ভাবে জনগনের কৃপা কুড়াচ্ছেন। সিটি হার্টের সামনে রাস্তার পাশে বসে চক দিয়ে রাস্তায় লিখে চলেছেন তার দূর্ঘটনার ইতিহাস, পাশে একটা অ্যালুমিনিয়ামের থালা যাতে পথচারীদের মধ্যে যাদের দয়া হচ্ছে তারা কিছু দিয়ে যাচ্ছেন। এই লোকটি বেশ শিক্ষিত বলেই মনে হল, তার হাতের লেখা এবং ইংরেজি বানান দেখে আমার তাই মনে হল। আমি সাধারণত এসব ক্ষেত্রে আলাপ করে কিছু জানার চেষ্টা করি কিন্তু একে কিছু জিজ্ঞেস করিনি, ভাবলাম যতক্ষণ সে আমার অবাঞ্ছিত কৌতূহলের জবাব দিবেন ততক্ষণ কিছু লিখতে পারবেন তাইঃ-
Photobucket

Sunday, 25 November 2012

প্রবহমাণ-৬

Photobucket
আমাদের প্রিয় এই তিলোত্তমা ঢাকা মহা নগরীর পাশে দিয়ে বয়ে চলেছে বুড়িগঙ্গা নদী। যেখানে এক সময় ভেসে থাকত রাজকীয় কোন নৌ বহর কিংবা জলকেলী করত রাজ হংসের দল। অথবা ভিন্ন ভাবেও বলা যায় এই প্রিয় নদীর পাড়ে গড়ে উঠেছে তিলে তিলে আমাদের প্রিয় তিলোত্তমা ঢাকা মহা
নগরী। আমাদের অনেক স্বপ্নের বাংলাদেশের রাজধানী। কিন্তু দেখুন এই প্রিয় নদীর কি অবস্থা। যারা এর আশে পাশে থাকেন তারা অহরহই দেখছেন আর ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন নিশ্চয়। কিন্তু যারা এই নদীকে এই ভাবে হত্যা করছে তারা কি কখনও ভেবে দেখেছে তাদের অবস্থান রাজাকারের চেয়েও কত ভয়াবহ !! আমরা রাজাকারের বিচার চাইছি ( প্রকারান্তরে এটা কোন দিন আদৌ হবে কি না তা যারা প্রশাসনের শীর্ষে রয়েছেন বা থাকছেন তারাই জানেন) আমরা দেখছি কথিত রাজাকারেরা আজ দেশের বড় বড় ব্যবসা সহ বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত হয়ে আছেন। এটা নিশ্চয় তাদের কৃতিত্ব, তারা সবার পা চেটে হোক বা যে ভাবেই হোক সব সময় ভাল থাকতে পারে।
এই ছবিতে লাল চিহ্নিত অংশের স্বাভাবিক রঙ থাকবে সবুজ, দীর্ঘ দিন পানিতে থেকে এই ধরনের জায়গায় শ্যাওলা জাতীয় এক প্রকার উদ্ভিদ জন্মায় ইংরেজিতে একে বলে ম্যারিন গ্রোথ। কিন্তু বুড়ি গংগার দুষনের ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এর রঙ হয়েছে এমন ধূসর এবং পানির রঙ হয়েছে কাল। এখন বুঝুন কতখানি দুষিত হলে এমন হতে পারে।
Photobucket
মানুষ মানুষের জন্য। এই মহা বাণী আমরা আজীবন পড়ে আসছি। কিন্তু দেখুন এই জীবিত মানুষটি কি ভাবে আবর্জনার স্তুপের উপর পরে রয়েছে !!!!! আমি সেদিন পাশে দিয়ে গাড়িতে করে যাবার পথে এই ছবিটি নিয়েছি। ছবিটি ফতুল্লা এলাকা থেকে নেয়া। দিনে দুপুরে এর আশে পাশে অনেক মানুষ কাজ করছিল।হতে পারে সে নেশা গ্রস্ত বা ভিন্ন কোন উপায়ে অস্পৃশ্য। কিন্তু সে কি মানুষ নয়?
Photobucket
আজকের এই সভ্যতার চরম বিকশিত দিনে মধ্যযুগীয় বর্বরের মত কেউ কাউকে এভাবে ঝুলিয়ে (নিচের লাল চিহ্নিত অংশ দেখুন) বেঁধে রেখেছে এমন করে ভাবা যায়? কোন মানুষ অপরাধী হয়ে জন্মায় না, জন্মে অপরাধী হয়। পরিবেশ, পরিস্থিতি তাকে অপরাধী করে দেয়। এই মানুষটি যে অপরাধ করেছে তার বিচারের জন্য দেশে রয়েছে পুলিশ, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে যাদের জন্য। চুরি করা কারো নেশা নয় পেশা। এমন ঘৃণিত পেশা একজন আশরাফুল মখলুকাত কেন বেছে নিবে? একে চুরির অপরাধে যার নির্দেশে এভাবে ঝুলিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে তিনি একজন রাজাকার এবং বর্তমানে মেহেদী রাঙ্গা দাড়ি রাখা মাথায় টুপি পরে থাকা কর্তা ব্যক্তি।

Friday, 23 November 2012

প্রবহমাণ-৫

Photobucket এই সোনার বাংলার আনাচে কানাচে অলিতে গলিতে দিবারাত্র কত কি ঘটে যাচ্ছে কে কার খবর রাখে। আমি সেদিন ভাবছিলাম ব্রিটেনের আর্থিক দিনকাল খুব খারাপ যাচ্ছে। তাই ওরা যদি ওদের BBC বিক্রি করে দিত তাহলে আমি সারে চার স্টারলিং পাউন্ড দিয়ে কিনে এই সব খবর পাবলিক এবং জনগনকে
জানাতাম। কিন্তু ওদের দুর্মতি দেখা দিল ওরা বিবিসি বিক্রি করবে না। সে যাক বিক্রি করুক বা না করুক এদিকে আমাদের সাহাদত উদরাজী ভাই এ দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে বলে আমিও ওদিক থেকে সরে এসেছি। সাহাদত ভাই তার ছোট ছোট কথামালায় [আমি নাম দিয়েছি "উদরাজী ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন" ] চমত্কার ভাবে এগুলি প্রচার করে যাচ্ছে।
কিন্তু সাহাদত ভাই একা একা কুলিয়ে উঠতে পারছে না, অনেক খবর এদিক ওদিক দিয়ে পিছলে আমার চোখেও দুই একটা ঘটনা পরে যাচ্ছে তাই আপনাদের সামনে হাজির করলাম আজকের প্রবহমাণেঃ-
১। নিচে দেখুন যে ঢাকা শহরে একজনের ঘুমের জন্য তৈরী হচ্ছে বৃক্ষ বিছানা  সেই ঢাকা শহরে আর এক জন ঘুমাচ্ছে ফুটপাথে। ছবিটি রেল ভবনের সামনে থেকে নেয়া। এখন বলুন কার ঘুম গভীর? কে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাচ্ছে আর কে ঘুমের ওষুধ চিনেই না? জীবন পুষ্প শয্যা নয় বলে কি জীবনকে ফুটপাথ শয্যা হতে হবে?-

[উপরের ছবিটি উপরে উল্লেখিত ঘুমের বিছানা, ধনীদের জন্য]
Photobucket
২। আমি অফিসে যাবার সময় ফতুল্লা দাপা ঘাটে গাড়ি যেখানে দাঁড়ায় তার পাশে প্রতিদিনই দেখি মায়ের পাশে বসে জীবনের সাথে যুদ্ধ করার কৌশল শিখে নিচ্ছে এই ক্ষুদে ভবিষ্যত যোদ্ধা। আজ তার যাবার কথা ছিল স্কুলে কিন্তু নিয়তি তাকে দিয়ে কি সুন্দর করে আমার এই লেখার খোরাক জুটিয়ে দিয়েছে-
Photobucket
৩। গত কাল অফিস থেকে ফেরার পথে শাহবাগ ফুল বাজারের কাছে সিগনালে গাড়ি দাড়িয়েছে আর দেখলাম আমার জানালার পাশে দিয়ে মলিন মুখে এই ছেলেটা মুখে ব্যান্ডেজ আর হাতে ফুল নিয়ে চলে যাচ্ছে। আপনারা যারা ওই পথে যাতায়াত করেন তাদের কেউ হয়ত ওকে দেখে থাকবেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ির দরজা খুলে ওকে ডাকলাম।
নামঃ কালাম, বাবা রিকশা চালায় এবং আরেক মাকে নিয়ে থাকে। ও কখন গেলে তাড়িয়ে দেয়। ঘরে ঢুকতে দেয় না। নিজের মা নেই। কয়েক দিন আগে এই রাস্তায় ফুল বিক্রির সময় এক গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে পরে গিয়ে এই অবস্থা। গায়ের জামা খুলে আরো কিছু ব্যান্ডেজ দেখাল। দেখাবার সময় ব্যাথায় মুখ বিকৃত হয়ে গেল। চেয়ে চেয়ে দেখলাম। মায়ের সোহাগ পায়নি। বাবার স্নেহ বঞ্চিত এই কালাম কি অপরাধে এই জীবন বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে?
Photobucket
৪। আমরা কতটা সভ্য হয়েছি কেউ বলতে পারেন? যেখানে মেয়েদেরকে এই ভাবে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ছবিটি বেশ কয়েক দিন আগে ঢাকার ঠাটারি বাজারের পাশের রাস্তা থেকে নেয়াঃ [চলন্ত গাড়িতে বসে তারা হুরো করে নেয়া বলে ছবিটি ঝাপসা এসেছে]
Photobucket
৫। চলা পথে এমন অনেক কিছু দেখা যায় যার সব কিছু ধরা যায় না। কিন্তু এই তেলবাহী লরির পিছনে অনেকক্ষণ রাস্তা জ্যামে আটকে ছিলাম বলে ছবিটা নিতে পেরেছি। উপরের [নীল দাগের ভিতর]লেখাটি দেখুন-
Photobucket
৬। কোন কোন কর্ম ক্ষেত্রে এমন বানী লেখা থাকে কিন্ত সুখের বিষয় হচ্ছে এগুলি শুধু শ্রমিকদের জন্য প্রযোজ্য। মালিক বা উপরের কর্মচারীদের [ উপরের কর্মচারীরাও বেতন ভুক্ত বলে কর্মচারী বললাম] জন্য এ লেখা পালন করা হারাম তূল্য। এমনকি এদের কোন আইন বা নিয়ম মানতে হয় না। সব চেয়ে ভয়ঙ্কর হছে এই কয়েক লক্ষ টাকার বেতন ভুক্ত কর্মচারিগুলি, এরা মালিকের জন্যেও যেমন ভয়ঙ্কর তেমনি কর্মচারীদের জন্য-
Photobucket
Photobucket
Photobucket
Photobucket

Friday, 16 November 2012

প্রবহমাণ-৩

Photobucket
(ছবিঃ ফরেস্ট অফ ডীন, বৃক্ষের কত্থক নৃত্য)
(ভাবনাগুলো)
চলতি পথে কিংবা কখন কোন একা উদাস নির্জনে বসে আমার মত অনেকের মনেই কিছু না কিছু ভাবনা বা সুর গুন গুন করে। তার কিছু ধরে রাখা যায় আবার কিছু কোথায় কোন নীলিমায় মিলিয়ে যায় তা আমরা কেউ জানি না। এ নিয়ে এত চিন্তাও করি না। কত কিছুই আসে যায় কে তার এমন খোজ রাখে, তাই না? এমনি কিছু টুকরো কথা যা আমাকে মাঝে মাঝে ভীষণ বিব্রত করে তোলে। মন থেকে
কিছুতেই দূরে যেতে চায় না। নিজেরই অজান্তে কখন যেন তাই কাগজের কোণে লিখে রেখেছিলাম। ঝারা মুছা করতে গিয়ে দৃষ্টিতে এলে আবার তা কখন যেন যত্নে তুলেও রেখেছিলাম তারই কয়েকটা আজ আপনাদের সামনে তুলে দিচ্ছি। দেখুন আপনারাও গুন গুন করতে পারেন যদি!
খন্ড কথা-১
কি খেলা খেলিছ আজ আমার হৃদয় লয়ে
বারে বারে নত হয়ে রই যেন তব পদ তলে
আমার প্রানের উচ্ছাস যত উছলিয়া উঠে
কহিতে পারে না তাই নিরবে আকুলিয়া ঝরে।
আপনার চেয়ে আপন যারে ভেবেছি চির কাল
সে নহে মোর আপন বুঝি নাই কেন এত কাল।
খন্ড কথা-২
সাঁঝের পাখিরা সবে ফিরে এল কুলায়
তুমি এলে না হায় আজো সন্ধ্যা বেলায়।
কত দিন কেটে গেছে প্রহর গুনে গুনে
কত রাত কেটে গেছে নিশীথের গান শুনে।
কি যেন বলিতে চেয়েছিলে মোরে
আজো হয় নি সে কথা শোনা
হলো না শেষ মোর কল্পনার জাল বোনা,
বসে রই ঝরা শিউলি তলায়।
খন্ড কথা-৩
ওই রংধনুর রঙ থেকে কুড়িয়ে পেয়েছি অরুন মালা
তুমি ছিলে পাশে হাতে নিয়ে বরণ ডালা।
খন্ড কথা-৪
বরষার মেঘ হয়ে আছ তুমি
হৃদয় যমুনার তীরে
যেন জাগলে ঢেউ কুল ভেসে
হাল ভাঙ্গা তরী এসে ভিরে।।
খন্ড কথা-৫
অনেক দিনের আশা ছিল তোমায় দেখিবার
মনের মুকুরে দ্বিপ জ্বেলে ভালবাসিবার।
খন্ড কথা-৬
কি ব্যাথায় গান গেয়ে পাখি ওই শাখে
মরমে বেঁধে সুর আমাকে ডাকে।।
হৃদয় তিমিরে নিভে গেছে শুকতারা
সুরের মিছিলে আর নাহি জাগে সারা
তবু কেন ওই সুর কেড়ে নেয় আমাকে।।
বিঃ দ্রঃ- যদি কেউ পারেন এটাকে ভূপালী রাগের উপর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত হিসেবে গাইতে পারেন। আমার কাছে সুরটা ছিল কিন্তু হারিয়ে গেছে।
খন্ড কথা-৭
রিনিঝিনি বাজে নুপুর শ্রাবণে
হারালো চাঁদের আলো
মেঘলা গগনে।।
কথা কয় নিশুতি রাত
ব্যাথার রাগিনী তুলে
যেন মধু লগন ভেসে যায়
বিরহ সাগরে।।
উপরের এটাও একটা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত, তবে এতে সুর হয়নি, যিনি পারেন করে নিলে আপত্তি নেই।
আজ এই তো এই পর্যন্তই। আবার দেখা হবে হয়ত বা এখানে নয় ভিন্ন কোথাও ভিন্ন কোন আয়োজনে। এতক্ষণ পর্যন্ত আপনারা সবাই ভাল থাকুন, এই শুভ কামনা সবার জন্য।

*** আমাদের দেশ সুন্দর রাখার দায়ীত্ব আমাদেরকেই নিতে হবে!

Thursday, 15 November 2012

প্রবহমাণ-২

 
আমরা অনেকেই ব্লগ করি। কিন্তু যদি বলি কেন করি? নিশ্চয় অনেকেই অনেক রকম কথা বলবেন। তবে আমার মনে হয় শখের বশে করি এই জবাবটাই বেশি হবে। দ্বিতীয়ত হতে পারে নিষ্কলুষ ভাবে সময় কাটানোর জন্য করি। তবে যে যে জন্যই করুন সে এক ভিন্ন বিষয় কিন্তু কেউ কি ভেবে দেখেছেন যে যাই বলি তার বাইরেও একটা সামাজিক বন্ধন তৈরী হতে পারে , হতে পারে সমাজের এক বিশাল কোন ব্যাপার যা আমার বেলায় ঘটেছিল। এখানে আমি তেমনই একটা ভিন্ন আনন্দ এবং ভিন্ন স্বাদের তৃপ্তির কথা বলছি।

আমার স্ত্রী যিনি তিনি এক জন অতি সাধারণ গৃহিনী। বিলাতে বাংলাদেশি ছাত্র ছাত্রীদের খাবার কষ্ট দেখে তার ইচ্ছে হল এমন একটা উপায় বের করতে যাতে করে এই সব ছাত্র ছাত্রীরা নিজেরা চেষ্টা করে বিলাসী খাবার না হোক অন্তত জীবন বাঁচাবার মত রান্না করে খেয়ে কম পয়সা খরচ করে যে উদ্দেশ্যে বিদেশে আসা সে উদ্দেশ্য সফল করে দেশে ফিরতে পারে।

ভাবলাম ভদ্র মহিলা খারাপ ধারনা করেনি। কিন্তু কি ভাবে তাকে আমি সাহায্য করতে পারি? তখন আমি মাত্র ব্লগিং এর সাথে পরিচিত হচ্ছি। মহাকাশের বিগ ব্রাদার গুগল সাহেবের সৌজন্যে নিজে দুইটা ব্লগ করে তাতে লেখা লেখি করি। তা হলে ওকেও এমন একটা ব্লগ খুলে দেই যাতে সে শুধু রান্না বান্না নিয়ে লেখা লেখি করবে! এক পণ্ডিতের সাথে আলাপ করলাম। সে বুদ্ধি দিল যদি সম্ভব হয় তা হলে একটা ডোমেইন কিনে গুগলের হোস্টিং ব্যবহার করে ইংরেজিতে পুরোপুরি ওয়েবসাইট করে দাও আর তার সাব ডোমেইন দিয়ে তার সাথে লিঙ্ক করে আলাদা বাংলা সাইট খুলে দাও। এতে করে আমাদের বাংলাদেশী রেসিপি ইংরেজিতে অবাঙ্গালিরা বানাতে পারবে আবার ভাবীর সোনার ছাত্র ছাত্রীরা সহজে রান্নার কৌশল খুঁজে পাবে।
বাহ! চমৎকার আইডিয়া! পণ্ডিত বন্ধুর বুদ্ধিটা আমার খুব ভাল লাগল। যেই ভাবা সেই কাজ। তার পরের দিনই গো ড্যাডি থেকে মাত্র ৩৫ পাউন্ড দিয়ে ৫ বছরের জন্য একটা ডোমেইন কিনে যা ভাবা তাই করে ফেললাম। প্রায় মাস দুয়েক সময় লেগে গেল আমার এই দুইটা সাইট সাজাতে। ওদিকে আমার পরম প্রিয় স্ত্রী মনের সুখে নানা ভর্তা থেকে শুরু করে একেবারে কাচ্চি বিরিয়ানি পর্যন্ত যা পেরেছে বা তখন চট জলদি মনে এসেছে সব লিখে ফেলেছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে উনি আবার কি বোর্ডে লিখতে পারেন না। উনি লিখেন কাগজে কলমে কালির আঁচড়ে। বেশ তাই হোক। আমি তাতেই খুশী। ও কাজটা এবং ইংরেজিতে অনুবাদটা না হয় আমি নিজেই করে নিব।
বেশ, এইতো শুরু হল পথ চলা। শখ করেই রান্না বান্না বিষয় নিয়ে এই যাত্রা শুরু। আমার স্ত্রীর সেই ওয়েব সাইট এর কন্ট্রাক্ট মি অপশনে দেয়া মেইল এড্রেসে ভারতের মুম্বাই থেকে তেলেগু ভাষী জনৈকা প্রিয়া মিত্র “Help me” বিষয়ে একটি মেইল পাঠিয়েছিলেন। সে মেইলে তিনি বলেছেন যে বাংলাদেশের এক মেয়ে ১০ বছর ধরে তার বাড়িতে কাজ করছে, এতদিন সে কিছু বুঝতে পারেনি কিন্তু বর্তমানে সময়ের সাথে সে বেড়ে উঠেছে এবং বুঝতে শিখেছে। এখন সে দেশে তার পরিবারের কাছে ফিরে আসতে চায়। মেয়েটির সাতক্ষিরার বাড়ির ঠিকানা দিয়ে তার পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি জানাতে ও তাকে দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে সাহায্য চেয়েই এই মেইল পাঠিয়েছে।

আমার পূর্বের চাকরীর সুবাদে অর্থাৎ কিনা বেশ অনেক বছর আমরা মংলায় থেকেছি। সেই সূত্র ধরে সাবেক সহকর্মী নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম এবং উপ সহকারী প্রকৌশলী এবিএম মাসুদ ভাইয়ের কাছে আমি প্রিয়া মিত্রের মেইলটি ফরোয়ার্ড করে দেই এবং যে কয়জনের ফোন নম্বর আছে তাদের সাথে ফোনে আলাপ করে এ বিষয়ে সাহায্যের অনুরোধ জানাই।
পরবর্তীতে তারা ওখানে কর্মরত সাতক্ষিরার কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করে প্রিয়া মিত্রের দেয়া ঠিকানা ধরে ওই এলাকার চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ করে মেয়েটির ভাই হাসান ও বোন হালিমার সন্ধান পেয়ে তাদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের ফোন নম্বর নিয়ে আমাকে জানালে আমি প্রিয়া মিত্রকে মেইল পাঠাই।
এসব নিয়ে তখন বাংলাদেশ থেকে প্রচারিত বাংলা হ্যাকস ও লন্ডন থেকে প্রচারিত জিন্নাতুল হাসানের ব্লগে অনেক লেখা লেখি হয়েছে এবং অনেকেই মেয়েটিকে দেশে আসার পর তার পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথাও ভেবে রেখেছিল।
এর পর প্রিয়া মিত্র মুম্বাই থেকে মেয়েটির ভাই হাসানের কাছে ফোন করে মেয়েটিকে কথা বলার সুযোগ করে দিলে এক আবেগ ঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা প্রিয়া মিত্র আমাদেরকে সাথে সাথেই মেইল করে জানিয়েছে। এবার সে ভারতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সাথে যোগাযোগ করে মেয়েটিকে তার নিজ পরিবারের কাছে নিজ দেশে পাঠাবার ব্যবস্থা নিবে বলে জানিয়েছিল।
পরবর্তিতে এইতো গত বছর যখন আমি দেশে এলাম তখন মংলায় আমার সাবেক সহকর্মীদের সাথে দেখা করতে গেলে সব কিছু বিস্তারিত জানতে পারলাম। সেই মেয়েটি এখন দেশে ফিরে এসেছে এবং অনেক দিন পর সে তার বাবা মাকে দেখতে পেয়েছে। আসলে সে এক শিশু পাচার কারির খপ্পরে পরেছিল ছোট বেলায়।
মেয়েটিকে দেখার ইচ্ছা থাকা সত্বেও সময়ের অভাবে আর সাতক্ষীরা যেতে পারিনি। আশা করি সে জন্য আপ[অনারা আমাকে মাফ করবেন।

এই সমস্ত প্রক্রিয়া সারতে মাত্র ১৬টি মেইল আদান প্রদান হয়েছে এবং কযেকটি ফোন করতে হয়েছে। আর প্রয়োজন হয়েছে একটু খানি সদিচ্ছার। আমি মনে করি ব্লগ করে এটাই আমার পরম প্রাপ্তি, হারিয়ে যাওয়া একজনকে তার পরিবারের সাথে পুনর্মিলন ঘটাতে পেরেছি। সকলকে ব্লগিং করতে উদ্বুদ্ধ করার জন্যই এই তথ্য এখানে দিয়েছি। আশা করি আমার মত সবাই বিষযটি উৎসাহিত করবেন।
এখানে একটি কথা না বললে নিজেকে অপরাধী মনে হবে, তা হচ্ছে ব্লগ করার ব্যাপারে নানা ভাবে প্রভাবিত করে, উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়ে এবং নানা রকম কায়দা কৌশল শিখিয়ে হাতে ধরে আমাকে সাহায্য করেছে ‘বাংলা হ্যাকস’ এর নাম না জানা পরিচালিকা (সে নিজেকে আড়াল রাখতেই পছন্দ করে), এই সাফল্যের সবটুকু কৃতিত্বই তার। এ কথা স্বীকার করতে আমি গর্ব বোধ করি।

প্রবহমাণ-১


(কুকুর চরিত্র)আমাদের চারিদিকে প্রতিটি সেকেন্ডে ঘটে যাচ্ছে অসংখ্য ঘটনা প্রবাহ যা আমাদের পক্ষে নিতান্ত দুই একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা যা সংবাদপত্র, রেডিও, কিংবা টেলিভিশন ছাড়া কিছুই জানা হয় না। কিংবা অগত্যা আমাদের নিজেদের চোখের সামনে ঘটে গেলেই কেবল জানতে পারি। এই বিশাল পৃথিবীর আনাচে কানাচে কত কি রয়েছে।
যেমন, কোন জাতি কি খেয়ে জীবন ধারণ করছে কিংবা কেমন পোশাক পরছে, কেমন ঘরে বসবাস করছে, কে কোন বিচিত্র পেশায় দিন কাটাচ্ছে এগুলির কতটুকু আমরা জানি বা জানতে চাই।
এ ছাড়াও এমন কিছু মানুষ রয়েছে তারা না মানুষ, না রোবট নাকি কোন অবাক করা পূর্বে না দেখা জন্তু তা বোঝা কঠিন। তারপরে কে এক বেলা এক মুঠ ভাতের জন্য দৌড়ে বেড়াচ্ছে আবার কেউ পোলাও বিরিয়ানি ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছে সে হিসেব রাখাও কঠিন ব্যাপার। খবরের কাগজ খুললে প্রায়ই দেখা যায়, প্রায়ই বলছি কেন এ তো নিত্য দিনের কথা, দুই টাকার জন্য বা এক কাপ চায়ের জন্য কিংবা সামান্য একটা পেন্সিলের জন্য যুবক বা চাচা খুন। পশুর কাছেও কত কি রয়েছে যা আমরা এখনো শিখতে পারিনি। পশুরা যদি আমাদের ভাষা বুঝতে পারত তাহলে ওরা আমাদের কি ভাবত? আমাদের মধ্যে যারা নিজেদের মানুষের বাইরে বড় লোক, ছোট লোক, ভদ্র লোক, চাষা, বস্তিবাসী নামে বিভিন্ন শ্রেণী করে রেখেছে তারা নিজেরা কি তা কি কখনো ভেবে দেখেছে? শুনে খুশী হবেন যে আমিও ভাবিনি। আমি যে ভাবিনি তা কি বিশ্বাস করেছেন? আরে ধুর তাই কি হয়? আমি যদি নাই ভাবতাম তাহলে এই এত আয়োজন করে কি আর এই লেখা ধারাবাহিক ভাবে লিখতে বসতাম? নিশ্চয়ই ভাবছি এবং নিজে ভেবে ভেবে কোন কুল কিনারা পাচ্ছি না বলে আপনাদের সাথে নিয়ে জড়াতে চাইছি। সে কথা হয়তোবা এতক্ষণে আপনাদের বুঝতে বাকি নেই।
আমরা নানা সময়ে বিচ্ছিন্ন ভাবে নানা কিছু প্রয়োজনীয় অপ্রয়োজনীয় কত কিই ভেবে থাকি যা বয়ে যাওয়া নদীর স্রোতের মত আসে আবার কোথা দিয়ে চলে যায়। তারই দুই একটা কথা কখন মনে একটু দাগ কেটে যায় আবার কখনো তার কোন প্রভাব পরে না। বা নিতান্ত হেয়ালী ভেবে উড়িয়ে দিই, মনে রাখার চেষ্টা করি না। তাই বলে কি তার মধ্যে কোন গুরুত্ব পূর্ণ ভাবনা থাকে না? অনেক সময় কি অপ্রয়োজনে প্রয়োজনীয় প্রসংগ ত্যাগ করি না? নিজের অজান্তেই কত কি মানিক রতন এভাবেই হারিয়ে ফেলি।

এইতো গেল ভূমিকা। তাহলে এখন বলবেন কি দিয়ে আজ এই প্রবাহ শুরু করি?
আচ্ছা ঠিক আছে আমি বলছি আজ কেন যেন হটাত করে আমার দেখা এক মহান পুরুষের কথা মনে পরে গেল তাই তার কথা দিয়েই শুরু করছি। তবে একটা কথা যা আপনারা ভাবতেও পারছেন না সেটি হচ্ছে এই মহান পুরুষটি কিন্তু কোন মানুষ নয় ইনি একজন কুকুর। হ্যাঁ সত্যিই বলছি আমরা সবাই এদের প্রজাতিকে এই নামেই চিনি।
আজ থেকে প্রায় বছর ১২ আগে ঢাকা থেকে মাত্র ১৭ কিমি দূরে সাভারে আমাদের একটা বিশাল খামার ছিল। ওখানে পশু পাখি সহ নানা জাতের সবজি, ফুল এবং অনেক কিছু উৎপাদন হতো। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে যা অবসিস্ট থাকত তাই আমাদের এবং আমাদের প্রতিবেশীদের জন্য যথেষ্ট ছিল। জানি না কোথা থেকে যেন পাঁচটা কুকুর পালা করে ওখানে থাকত। অর্থাৎ কেউ আসত আবার কেউ চলে যেত কিন্তু তাদের দল থেকে কখনই পাঁচটার কম দেখিনি। তারা রাতে তো পাহারার কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে করতই এমনকি আমাদের যে রাতের পাহারাদার ছিল তার সাথে সুশৃঙ্খলিত ভাবে যোগাযোগ রেখে কাজ করত। যে রাতে ঘুম আসতে দেরি হত সে রাতে যতক্ষণ জেগে থাকতাম ওদের সাথেই কাটাতাম। ওরা দুই তিন জনে পুরো খামার এলাকা ঘুরে এসে আমার কাছে বসত আবার অন্যরা যারা আমার সাথে ছিল ওরা চলে যেত। এই ভাবে পালা ক্রমে ওদের পাহারার কাজ চলত। কখনো দেখেছি যারা ঘুরে এসেছে তারা এসেই বসে থাকা দলের সাথে কি যেন আলাপ করত। মানে প্রায় নিরব মিটিং এর মত। যার কিছুই আমি বুঝতাম না কিন্তু ওরা নিজেদের কথা কি বুঝত বা বোঝার ভান করত কিনা তা কখনো জানতে পারিনি। ওদের কথা আমি কিছুই বুঝতে পারতাম না। তবে ওরা যে আমাদের কিছু কথা অন্তত বুঝত তা আমাদের কাছে স্পষ্ট ছিল। ওদের যে সর্দার ছিল তাকে আমি ভোলা বলে ডাকতাম। খামার এলাকায় ঢুকে ভোলা বলে হাঁক দিলেই ও কাছে চলে এসে কুই কুই করে পিছনের দুই পায়ের উপর দাঁড়িয়ে এমন একটা ভাব ধরত জে তখন ওর মুখে কিছু খাবার না দিলে ওর হাত থেকে রেহাই পাওয়া কঠিন ব্যাপার ছিল। এগুলি আমরা জানতাম বলে আগে থেকেই তেমন প্রস্তুতি থাকত। অগত্যা সাথে কিছু না থাকলে রেস্ট হাউজের কিচেন থেকে কিছু না কিছু এনে দিতে হতো। বিশেষ করে আমার ছোট মেয়ে যেদিন যেত সেদিন হতো ওদের ঈদ। ওহ! এই দেখেন গুরুত্বপূর্ণ কথাটাই ভুলে গেছি। এই জে ভোলাকে খাবার দেয়া হতো তা কিন্তু কখনোই ও একা খেত না। অন্তত ওর কাছাকাছি যারা থাকত তারা মিলে ভাগাভাগি করে খেত।

আমি এবং আমার স্ত্রীকে প্রায়ই ওখানে থাকতে হতো। তেমনি একদিন সকালে নাশতার পর রেস্ট হাউজের বারান্দায় বসে চা খাচ্ছিলাম। তখন গত কয়েক দিন আগে ভোলার দলবলের মধ্যে এক সঙ্গিনী পাঁচটি বাচ্চা প্রসব করে খুব অসুস্থ হয়ে পরেছিল। এমনকি তার বাচ্চারা মায়ের বুকের দুধ ঠিক ভাবে পাচ্ছিল না। আমাদের খামারের এক কর্মী বুদ্ধি করে বাজার থেকে পাঁচটা ফিডার কিনে এনে ওতে গরুর দুধ ভরে খাওয়াত। যা বলছিলাম, আমি বারান্দায় চা খাচ্ছিলাম যেদিন সেদিন কেন যেন বাচ্চাদের ফিডার খাওয়ান হয়নি এবং দলের সবাই খামারের পশ্চিম পাশে কাজ চলছিল বলে ভোলা বাহিনীর সবাই ওখানে ছিল আর এদিকে বাচ্চারা ক্ষুধায় কুহ কুহ করছিল। শব্দটা আমিও শুনছিলাম কিন্তু আমি এর মানে বুঝতে পারিনি। বুঝব কি করে বলুন। আমি যে মানুষ! তাই নিজের নাশতা চা হয়ে গেছে আর কি? সে যাই হোক, এমন সময় কাছেই কাটা তারের বেড়ার পাশ দিয়ে ভিন্ন সাদা কাল রঙের একটা বেশ বলিষ্ঠ কুকুর যাচ্ছিল। ও ওই বাচ্চাদের কুহ কুহ শুনে থমকে দাঁড়াল। একটু মনযোগ দিয়ে ওদের কান্নার ভাষা বুঝতে পেরে জে পথে এসেছিল সেই পথে চলে গেল। ওই পথেই একটু দূরে এক বাড়িতে বিয়ের আয়োজন হচ্ছিল সেখানে আমাদেরও নিমন্ত্রণ ছিল তবে ঐ সাদা কালো কুকুরটার নিমন্ত্রণ ছিল কি না জানি না। সেদিন আমার বিশেষ কোন কাজ ছিলনা বলে সেন্টার টেবিলের উপর পা তুলে চেয়ারে বসে ছিলাম।
একটু পরেই ওই কুকুরটাকে ফিরে আসতে দেখলাম। ও এসে কাটা তার ডিঙ্গিয়ে ওই বাচ্চা গুলির পাশে দাঁড়িয়ে বমি করার মত মুখে করে আনা খাবার উগরে দিল। কিছুক্ষণ অদের দেখে বুঝে নিলো যে এরা এতই ছোট যে একা একা খেতে পারছে না। তখন সে ওই খাবার কিছু কিছু করে নিজ মুখে নিয়ে চিবিয়ে এক এক করে ওই বাচ্চাদের খাইয়ে দিল। এই ঘটনা যখন ঘটে তখন আমার স্ত্রী শসা বাগানের মাচা ঠিক করে দিচ্ছিল। আমি তাকে তাড়াতাড়ি ডেকে এনে দেখালাম। আমরা দুই জনেই অবাক হয়ে ওদের কাণ্ড দেখলাম। এমন সময় ভোলা যেন কি ভাবে এসে হাজির। কিন্তু সে আগন্তুক সাদা কালোকে দেখে কোন উচ্চ বাচ্য করল না। সাদা কালো ভোলাকে দেখে চলে গেল আর ভোলা ওই সাদা কালোর আনা খাবার সে যেমন করে খাইয়ে দিচ্ছিল ভোলাও তেমনি করে খাইয়ে দিতে লাগল। আমি আশরাফকে ডেকে তাড়াতাড়ি ফিডার রেডি করে ওদের খাওয়াবার কথা বলে দায় শেষ করে ভিন্ন কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। এত বছর পরে হলেও সেই ঘটনা কেন যে আমার চোখের সামনে থেকে যায়না বুঝি না। যখনই একা থাকি তখন মাঝে মাঝে চোখের সামনে দিয়ে সিনেমার মত দেখি।
আপনারা কেউ পারবেন আমার এই সিনেমা দেখা থেকে মুক্তির পথ দেখাতে?

Monday, 16 April 2012

প্রবহমাণ


প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে পৃথিবীর আনাচে কানাচে কত কি ঘটে যাচ্ছে সে খবর আমরা কতটুকুই বা রাখতে পারি! তারই যা আমার চোখে ধরা পরেছে তার কিছু এখানে তুলে দিলামঃ

১। অনেকেই নাম শুনেছেন আবার অনেকেই দেখেছেন এই নাগ চাপা কিংবা নাগেশ্বর।