Tuesday, 11 December 2012

নক্ষত্রের গোধূলি-৬১ [অধ্যায়-৬]


Photobucket


পুর্ব প্রকাশের পরঃ নক্ষত্রের গোধূলি-৬০
কালে উঠে দুজনে এক সাথে নাস্তা খেয়ে বের হলেন। এক সাথেই টিউব স্টেশন পর্যন্ত এসে এক জন ব্রিকলেন আর এক জন ভিক্টোরিয়া গেলেন। রাশেদ সাহেব ভিক্টোরিয়া টিউব স্টেশন থেকে কোচ স্টেশনে যাবার পথ হারিয়ে ফেলেছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদ করে

যখন পৌঁছলেন তখন সোয়ানসীর কোচ ছাড়ি ছাড়ি ভাব। যাই হোক গাড়িতে উঠে পরলেন কিন্তু ভেবেছিলেন পথে খাবার জন্য কিছু কিনে নিবেন তা আর হোল না। যাক, সময় মতো গাড়ি পেয়েছি এই যথেষ্ট সাথে এক বোতল পানি আছে এতেই চলবে। যদি কোন সার্ভিস স্টেশনে থামে তাহলে আর কোন কথা নেই। গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে, যথারীতি এদেশের প্রথানুযায়ী ড্রাইভার মাইকে যাত্রীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানিয়ে দিল। বাকিংহাম প্যালেস রোড ছেড়ে একটু পরে টেমস নদীর পাড় দিয়ে কোচ এগিয়ে যাচ্ছে ব্রিজেন্ডের পথে। পথ হারিয়ে ফেলায় ভীষণ চিন্তায় পড়েছিলেন, দৌড়িয়ে আসতে হয়েছে।
গলা শুকিয়ে গেছে, ব্যাগ থেকে পানির বোতল বেড় করে একটু পানি খেয়ে নিলেন। আজ দিনের বেলা, রাস্তায় দেখতে দেখতে যাওয়া যাবে। আধা ঘণ্টার বেশি হয়ে গেল শহর এলাকা ছাড়িয়ে আসতে। বাম দিকে কোথাও হিথরো এয়ারপোর্ট, রাস্তার দিক নির্দেশনা দেখে অনুমান করলেন। বেশ কিছু দূর যাবার পর দেখলেন ভেড়া চড়ে বেড়াচ্ছে অনেক গুলি। বিশাল টিলার মত এলাকা নিয়ে ভেড়ার খামার। দূর থেকে দেখে ভাবছিলেন কতো বিশাল এলাকা নিয়ে খামার। ভেড়া গুলি এই শীতের মধ্যেও কেমন চড়ে বেড়াচ্ছে, তাজা ঘাস খাচ্ছে।

ইচ্ছে করে মন থেকে চিন্তা দূরে রাখতে চাইছেন কিন্তু পারছেন না। দেশ থেকে এসেছেন আজ প্রায় আড়াই মাস হয়ে গেছে, মনি চলছে কি ভাবে। সেতো কোন টাকা পয়সা পাঠাতে পারেনি। ওদিকে আবার মামার টাকাগুলিও দিতে হবে, অবশ্য মামা টাকার জন্য তাগাদা দিবেনা, তবুও। দেখি ওখানে গিয়ে কি অবস্থা হয়। এ পর্যন্ত টাকা যা পেয়েছে তা খরচ বাদ দিয়ে বাকি গুলি সাথেই আছে, অবস্থা বুঝে পাঠিয়ে দিবে। মনি কি এমনিতেই কম চিন্তা করতে পারে?লন্ডনে এসে কি হোল তাও জানাতে পারেনি, সময় বা সুযোগ হল কোথায়। দেখি ওখানকার অবস্থা জেনে একবারেই জানানো যাবে। এখন যেখানে যাচ্ছে সেখানে কেমন কে জানে। সামনে কিছু দূর যাবার পর তার ভাই যে শহরে থাকে সেদিকে যাবার পথ নির্দেশ দেখতে পেয়ে মনটা কেমন যেন উদাস হয়ে গেল আবার। না তাকে এই যন্ত্রণার কথা ভুলতেই হবে এই ব্যথা কিছুতেই পুষে রাখা যাবেনা তাহলে সে পঙ্গু হয়ে যাবে, কিছুই করতে পারবেনা। মানসিক শক্তি হারালে চলবে না, তাকে শক্ত হতে হবে, কঠিন হতে হবে, নিজেকে ভেঙ্গে যেতে দেয়া যাবেনা। জোড় করে নাসিরের কথা মনে করার চেষ্টা করলো, নাসির কি করছে ও কি ডিডকোটের কাজটা পেয়েছে? কখন যাবে, আজ নাকি কাল? নাসিরের সাথে যখন আলাপ হোলই যদি লন্ডনে আর একটা দিন সময় পেতো তাহলে একটা মোবাইল নিলে খারাপ হত না।

এখন ফোন করে জানা যেত ওর কি হয়েছে। আমাদের মত গরীব দেশে সরকারি বড় বড় অফিসারদেরও একটা মোবাইল ফোন কিনতে হলে হিশেব নিকাশ করে কিনতে হয়। এখানে এক জন সাধারণ সর্ব নিম্ন আয়ের মানুষও তার এক সপ্তাহের আয়ের চার ভাগের এক ভাগ দিয়েই মোটা মুটি মানের একটা মোবাইল কিনতে পারে। এদেশের মানুষের অসুখ বিসুখ হবে কেন?এদের খাওয়া পরার কোন চিন্তা নেই, ভাবনা হীন জীবন। যা আয় করছে তা দিয়ে নিশ্চিন্তয় দিন চলে যাচ্ছে, আনন্দ করছে, সখ মেটাচ্ছে। কাল কি খাবো, কি পরবো, ছেলে মেয়ের লেখা পড়ার খরচ কি দিয়ে চালাবো সে চিন্তা নেই। অথচ আমাদের দেশে দোকানে বা বাজারে সখের কোন জিনিস, ঘড় সাজাবার জিনিষ বা নতুন কোন খাবার যা কিছু দেখা যায় তা দেখেই তৃপ্তি পেতে হয়। সে জিনিস আর কেনার সুযোগ করে উঠতে পারেনা। এখানে রাস্তায় কোন ধুলা বালি নেই, ডাস্টবিনের বাইরে কোন আবর্জনা নেই, কোন পচা গন্ধ নেই, নাকে রুমাল চেপে হাটতে হয়না। হাবি যাবি কোন পোকা মাকড় নেই। এতো দিন হয়ে গেল এসেছে এর মধ্যে কোন মশা বা মাছি দেখেনি। দোকানে কোন ভেজাল খাবার নেই, চিকিৎসায় কোন খরচ নেই সরকার বিনা পয়সায় চিকিৎসা করছে শুধু চিকিৎসা না সাথে এক্সরে, প্যাথলজি পরীক্ষা, আলট্রা সোনো ইত্যাদি যা যা দরকার হচ্ছে সব করছে। এর মধ্যে একদিনের জন্যেও কোথাও বিদ্যুৎ নেই এমনও চোখে পড়েনি। লন্ডন শহরে যতগুলি টিউব স্টেশন আর সুপার স্টোর গুলিতে সারা দিনে শুধু চলমান সিঁড়িতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে তা দিয়ে মনে হয় কয়েকটা ঢাকা শহর চালানো যাবে।

এই যে এত দূরের পথ গেল আবার এল কই মনেই হয়নি যে এত দূরের জার্নি করে এসেছে। গত পরশু যে কাপড় পরে ওবান থেকে বের হয়েছিল এখনো সেই শার্ট সেই প্যান্ট সেই মুজা পরনে রয়েছে। জুতাটাও এক বার ব্রাশ করা হয়নি। মনেই হচ্ছে না গত তিন দিন ধরে এই এক কাপড় পরে এতো জার্নি এতো দৌড়া দৌড়ী করেছে। আসার পর থেকেই তো কত অচেনা খাবার খেতে হয়েছে অচেনা খাদ্যে অভ্যাসের ব্যতিক্রম হলেও পেট তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেনি। এরা ভালো থাকবেনা কেন?এক কাপড় পরেই ছয় দিন ডিউটি করেছে ঘাম ধুলোর কোন গন্ধ হয়নি তবে গন্ধ যা হয়েছে তা শুধু মদের গন্ধ। বিয়ারের গন্ধ মনে হত খাদ্য বিভাগের কোন গোডাউনের গম পচা গন্ধ। সব চেয়ে বিকট গন্ধ হল রেড ওয়াইনের। উল, বোতল খুললেই মনে হত পেট থেকে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসতে চাইছে।

রাস্তার পাশে বোর্ডে সোয়ানসী, কার্ডিফ, নিউ পোর্ট যাবার দিক নির্দেশ দেখা গেল। বাম পাশে বৃস্টল শহর পিছনে রেখে এসেছে। সামনে একটু পরেই স্যাভার্ণ নদীর ব্রিজ। বেশ বড় নদী তবে শান্ত। ব্রিজ পার হয়ে টোল দেবার জন্য একটু থামল। টোল পয়েন্ট ছাড়িয়ে একটু পরেই রাস্তার বাম পাশে দেখা গেল সাউথ ওয়েলসে আসার জন্য স্বাগতম জানানোর বোর্ড, ইংরেজি আর ওয়েলস ভাষায় লেখা। তার মানে ইংল্যান্ড ছেড়ে সাউথ ওয়েলস এসে পরেছি। একটু পরে নিউ পোর্ট বাস স্টেশনে গাড়ি দাঁড়াল। কয়েক জন যাত্রী নেমে যাবার পর আবার ছেড়ে দিল। রাস্তার পাড়ের বোর্ড দেখে রাশেদ সাহেব বুঝলেন তার গন্তব্য আর বেশি দূরে নেই, হয়তো ঘণ্টা খানিক লাগতে পারে। কিছু দূর যাবার পর দেখা গেল বামে কার্ডিফ আর সোয়ানসী এবং ব্রিজেন্ড সোজা সামনে।

[দেশ স্বাধীন করেই মুক্তি যোদ্ধার দায়দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়না। দেশকে সুন্দর করে গড়ে তোলার কাজটাও আমাদের করতে হবে।
সরকারি এবং বিরোধী দলের নেতাদের কাছে অনুরোধ জানান তারা যেন তাদের পারষ্পরিক দ্বন্দ্ব নির্দিষ্ট স্থানে মীমাংসা করেন এবং তা যে কোন ভাবেই রাজপথে না আনেন কারণ রাজপথে তাদের কোন অধিকার নেই। একচ্ছত্র ভাবে রাজপথের অধিকার শুধুমাত্র দেশের জনগণের। জনগণের অনেক কোটি টাকা ব্যয় করে তাদের সংসদ ভবন করে দেয়া হয়েছে। আমরা আর কোন বিশ্বজিতকে হারাতে চাইনা]

2 comments:


  1. [দেশ স্বাধীন করেই মুক্তি যোদ্ধার দায়দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়না। দেশকে সুন্দর করে গড়ে তোলার কাজটাও আমাদের করতে হবে।
    সরকারি এবং বিরোধী দলের নেতাদের কাছে অনুরোধ জানান তারা যেন তাদের পারষ্পরিক দ্বন্দ্ব নির্দিষ্ট স্থানে মীমাংসা করেন এবং তা যে কোন ভাবেই রাজপথে না আনেন কারণ রাজপথে তাদের কোন অধিকার নেই। একচ্ছত্র ভাবে রাজপথের অধিকার শুধুমাত্র দেশের জনগণের। জনগণের অনেক কোটি টাকা ব্যয় করে তাদের সংসদ ভবন করে দেয়া হয়েছে। আমরা আর কোন বিশ্বজিতকে হারাতে চাইনা]

    চাই বা না চাই হারাতে হবে আরও বিশ্বজিতদের। নেতাদের কানে তুলো গুঁজে দিয়েছে অলক্ষ্য থেকে কেউ, তারা কারো শুভ আহ্বানে সাড়া দেবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। নিজদের স্বার্থ পূরণে তারা অপরের দুঃখ কষ্টের তোয়াক্কা করে না।

    ReplyDelete
  2. মেনে যখন নিতেই হবে তাহলে আর কষ্ট করে কেন আনন্দের সাথেই মেনে নিই, কি বলেন নাজমুল ভাই!

    ReplyDelete

Thank you very much for your comments.