Friday, 30 November 2012

নক্ষত্রের গোধূলি- ৩৪ (অধ্যায় ৩)

শুয়ে শুয়ে সারাদিনের ছবি ভাবতে চাইলেন। না, ভেবে আর কি হবে? এই ভাবেই যখন চলবে চলুক না। কি আছে ভাবার? তার চেয়ে মেনে নেয়াই ভালো। মেনে নিতে না পারলে কষ্ট আরও বাড়বে। মনের মধ্যে কোথায় যেন এই মেনে নেয়াতে একটু দ্বিধা লাগছে। কিন্তু কেন।? এতো পরিশ্রম কি পারবো? টিকে থাকতে হবেতো! এই করে
যদি নিজেই শেষ হয়ে যাই তাহলে চলবে কি করে? ডায়াবেটিসটাই তো দিলো আমাকে শেষ করে। মাথা ব্যাথা হলে ওসুধ খেয়ে ব্যথা সারাতে হয়, মাথা কেটেতো আর ব্যথা সারান যায় না। তা হলে কি করা যায়? মারুফ বলেছিল সামনের কাজ খুঁজে দেখতে, কিন্তু আমি কিভাবে খুজবো কাকে চিনি আমি? দেখা যাক কয়েকদিন। শুক্র শনিবারতো গেল।

সামনের কয়েকটা দিন দেখি কেমন। হাত দুটার দিকে চোখ পরল, সব গুলি আঙ্গুল কাটা কাটিতে ভরা, কয়েকটা নখ ভেঙ্গে গেছে। হাত গুলি কালো দাগে ভরা দেখে তাকিয়ে রইলো। রাশেদ সাহেব তুমি কি পারবে এভাবে? গ্রাভির ডেকচি, রাইসের ডেকচি নাড়া চারা করতে হচ্ছে। আজকেইতো কোমরে টান লেগেছিল কখন কি হবে বলা যায়? মানুষ কি সবসময় সাবধানে চলতে পারে? ভাল হবে তুমি সামনে কাজের চেষ্টা কর। বুঝলামতো, কিন্তু—, আবার ঐ কিন্তু। আচ্ছা দেখিইনা কয়েকদিন। দাঁড়াবার জায়গা যখন হয়েছে তখন অবস্থা বুঝে ব্যাবস্থাও একটা হবে। কয়েক দিন একটু মেনে নিতেই হবে উপায় নেই। এখানে আমার কে আছে এমন কেউ নেই যে আমাকে সব কিছু করে দিবে। আমিও সব কিছু জানিনা চিনিনা একেবারে নতুন, কিছুদিনের অপেক্ষায়তো থাকতেই হবে। সময়ই বলে দিবে কখন কি করতে হবে। ঘড়িতে পৌনে দুইটা বেজে গেছে। না আর না এবার উঠতে হয়। উঠে নিচে যেয়ে দেখে রুই মাছ আলু দিয়ে রান্না হয়েছে তাই দিয়ে সেহেরি খেয়ে এসে ওষুধ খেয়ে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে কাত হয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে একা একা মনে মনে কথা বলছিল।

নুরুল ইসলাম এসে বলল চলেন ভাইসাহেব খেয়ে আসি।
আমি এইমাত্র খেয়ে আসলাম, রাতে ভাত খাইনিতো তাই একটু তারাতারিই খেয়ে নিলাম আপনি যান।
নুরুল ইসলামের সাথে এখনো আলাপ হয়নি। আস্তে আস্তে আলাপটা করে নিতে হবে এক রুমে থাকি দরকার আছে।
আচ্ছা ভাই এ রুমে হিটার নেই?
জানি না, আমিও নতুন এসেছি।
তাই নাকি?
হ্যা।
কবে?
এইতো গত মাসের মাঝামাঝি মানে তিন সপ্তাহ চলছে।
ও আচ্ছা। তাহলে কি করা যায়? ঠান্ডা লাগে একটু একটু শেষ রাতের দিকে। আপনার লাগেনা?
হ্যা লাগে দেখি শেফ এলে বলতে হবে।
কেন শেফ কেন আপনার সামনেওতো দুইজন মালিক আছে।
তা থাকলে কি হবে ওরা এসব গুরুত্ব দেয়না। যাই আমি খেয়ে আসি।
হ্যা আসেন এসে যদি দেখেন আমি ঘুমিয়ে পরেছি তাহলে—
না না ডাকবনা, বুঝেছি ঘুমান আপনে লাইট নিভিয়ে দিবো?
হ্যা ভালোই হবে।
হাতের সিগারেট শেষ করে নিভিয়ে ফেললেন।

সকালে সাড়ে দশটার দিকে ঘুম ভাংলো তারপরেও কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে রইলেন। ভাল ঘুম হয়েছে কিন্তু তবুও কেন যেন মাথা ঝিম ঝিম করছে। উঠে ওযু করে এসে নামাজ পরে ভাবছিলেন কি করবেন তারতো কোথাও যাবার জায়গা নেই। সবাই ঘুমে, এক জানালা ছাড়া আর কোথায় যাবেন? পিছনে একটু হাঁটা যায় কিন্তু ভীষন ঠান্ডা। জানালার পাশে এসেই দাঁড়ালেন। চেয়ারটা এনে কি বসা যায়? চেয়ার টেনে এনে বসলেন, না দাঁড়ানই ভাল বসলে কিছু দেখা যায়না। কিইবা আর দেখবেন দুই এক জন যাতায়াত করছে মাঝেমাঝে গাড়ি আর খোলা আকাশ আর কিচ্ছু নেই। প্রথম দিনের দেখা দোকান গুলিতে কোন মানুষ ঢুকতে বা বের হতে দেখা গেলনা এখনও। এগুলি কি বন্ধ নাকি? মানুষই দেখা জায়না তা আর দোকানে আসবে কে? বাইরে বের হতে পারলে আশে পাশে একটু ঘুরে দেখা যেত, কিন্তু বাইরে বের হলে ঢুকবে কিভাবে? চাবির ব্যাপার আছে, থাক পরে সব কিছু জেনে শুনে তখন বেরুনো যাবে। পাবটার গেটের সামনে তাকাল, বন্ধ। অবশ্য এদেশের সব দরজাই শীতের জন্যে বন্ধ থাকে। দরজার সামনে ওপেন/ক্লোজ সাইন দেখে বুঝতে হয় দোকান খোলা না বন্ধ। এখন বন্ধ খুলবে কখন? হয়তো সন্ধ্যায় যখন উল্লাস করার জন্য সবাই ছুটে আসবে।

আজ রবিবার আজতো ছুটির দিন শহর বন্ধ থাকার কথা। হ্যা মনে পরেছে এই জন্যেই রাস্তায় মনুষ নেই। খুকু কি করছে, মাঝু কি কলেজে গিয়েছিল, আর যুথি? যুথিটা যে কেমন হলো সুধু ক্লাশ কামাই করার চিন্তা। কবে যে ও বড় হবে? হোক আস্তে আস্তেই হোক। ওর ছোট চাচাওতো এই রকম ছিল। মনি কি করছে এখন? এখন দেশে বিকেল পাঁচটা বাজে, হয়তো বিকেলের চা নাস্তা বানাচ্ছে, নিয়ে ছাদে যাবে নয়তো নামাজ পরছে। সামনের দোকানের সারির ছাদের চুড়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাশেদ সাহেব। যেন মনিকে, যুথিকে, মাঝু্কে, খুকুকে সবাইকেই দেখতে পাচ্ছে ওখানে। নীচে কোথায় যেন টেলিফোনের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকক্ষণ কান পেতে শোনার চেষ্টা করলো। হ্যা রেস্টুরেন্টের ভতরেই বাজছে। ওরা কি রেস্টুরেন্টের সময়সূচী জানেনা নাকি মনে করেছে সারা দিন রাত খোলা থাকে? রেস্টূরেন্টতো এখন বন্ধ কে ধরবে? কত কি মনে আসছে যাচ্ছে কোনটাই স্থায়ী হচ্ছেনা। এলো মেলো হালকা মেঘের মত এখান থেকে ওখানে কোথায় ছুটে বেরাচ্ছে। আসার আগে ঈদের জন্যে কিছু কেনাকাটা করে দিয়ে আসেনি মেয়েরা তা মেনে নিয়েছে কিচ্ছু বলেনি। সবারই এক কথা তুমি আগে ঠিক হও তখন দেখা যাবে। ঈদের দিন নতুন কাপর না পরলে কি হয় যারা সারা বৎসরে একটা কাপর পায়না তাদের দিন যায়না? আমাদের কিছু লাগবে না। আমার লক্ষী সোনা মনি বলে তিন মেয়েকেই বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। চোখ ভিজে গিয়েছিল। ছোট মেয়ে যুথি হাত ছাড়িয়ে বলেছিল আব্বু আমি তোমার জন্যে চা নিয়ে আসি। মাঝু আর খুকু বলল তুমি এতো চিন্তা করবেনাতো আব্বু। দেখবে একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে। মনিকে বলেছিল তুমি কি যেয়ে ঈদের জন্যে মেয়েদের কিছু কিনে দিতে পারবে? না আমার মনে হয় তার দরকার হবে না। তার চেয়ে টাকাটা থাকলে কখন কি হয় কাজে লাগতে পারে। ঠিক আছে যা ভাল মনে কর তাই কর। সংসারের হিসাব নিকাশ সবসময় মনিই দেখে আসছে। রাশেদ সাহেবের মাথায় এগুলি ভালো কাজ করেনা।
নিচে চেঁচামেচির শব্দ শুনে উঠে দাঁড়ালো। লোকজন উঠছে। বারোটা বাজার দশ মিনিট বাকি। কাজের পোষাক পরে নিচে নেমে এল। কিচেনের লাইট জ্বালিয়ে গত দুই দিনের অভিজ্ঞতায় যা যা করতে হবে তা করতে করতে কবির নেমে এলো।
ভাইছাব ঐ মাঝারি ডেকচিটায় পাঁচ পট চাউল আনেন।
আচ্ছা আনছি, এই যে চাউল।

এবারে এই তাজমহল মার্কা ডালডার বাকেট থেকে এই চামচ দিয়ে সাত আট চামচ ডালডা নেন। লবণ, গরম মশলা দেন, তেজপাতা দেন। এবারে আঙ্গুলের কড় দখিয়ে বলল এই পরিমান পানি দেন।
আচ্ছা দিলাম।
এবারে ঢাকনা দিয়ে এই চুলায় বসিয়ে দেন। আজকের পোলাউ আপনেই রান্না করলেন। এবারে লক্ষ রাখবেন চালটা ফুটে উঠলেই এই যে ওভেন এইটা জালিয়ে দেন হ্যা এটা গরম হোক। এইখানে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিবেন দশ থেকে পনের মনিট। ব্যাস পোলাও শেষ। এরপর ওভেন থেকে বের করে নামিয়ে এইখানে রাখবেন। আজ বেশি কাজ নেই যা আছে ধীরে সুস্থে করা যাবে চিন্তা নাই।
বলে সে নিজেই বাইরে বের হয়ে গেল বাইরের স্টোরের দিকে। কিছুক্ষণের মধ্যে আদা রসুন নিয়ে ফিরে এলো।
এবারে ঐ কেটলিতে এক কেটলি পানি গরম দেন। পানি গরম হলে এই রসুনগুলি এই বাকেটে ভিজিয়ে দিবেন। গরম পানিতে রসুনের খোসা ছারাতে সুবিধা। এবারে বসে বসে ছুরি দিয়ে আদা গুলি ছিলে এই বাকেটে রাখেন।
দুইজনের আদা রসুন ছেলা হলে একটা ব্লেন্ডার বের করে এনে বলল এবারে এইগুলি পেস্ট বানিয়ে এইরকম কন্টেইনারে রাখবেন। তারপরে ব্লেন্ডারটা ধুয়ে পানি ঝরিয়ে ওখানে রেখে দিবেন। কিচেন ছেরে যাবার আগে ওইযে কুরুনি ওটা দিয়ে পোলাওগুলি এই যে এই ভাবে কুরিয়ে রেখে যাবেন। কুরিয়ে রাখলে পোলাও ঝরঝরে থাকে, দেখবেন সারাদিন লাগাবেন না। দুপুর দুইটার মধ্যে সব শেষ করবেন।
এর মধ্যে মারুফ এলে তাকে বলল আজকে ভাইছাবকে দিয়ে পোলাও রান্না করিয়েছি।
বাহ! এইতো দেখলেন তিন দিনেই আপনি কুক হয়ে গেছেন। রাতে কি খাবেন বের করেছেন?
না ভুলে গেছি।
ঠিক আছে এবারে নিয়ে আসেন।
সেহেরিরটা?
হ্যা ওটাও আনেন।
এক প্যাকেট ল্যাম্ব আর এক প্যাকেট মাছ এনে ভিজিয়ে রাখলেন।
মারুফ বলল
ভাইসাব আজকের ল্যাম্বটা আপনে রান্না করেন আমি বলে দেই।
বলেন।

একটু পরে বলি মাংশের বরফ গলতে দেন আগে।
আজকে বেশ নিরিবিলি মনে হলো, কোন তারা হুরো নেই। হাক ডাক নেই, সবার মন একটু ভিন্ন রকমের। বেশ গল্পে গল্পে চলছে কাজ কর্ম। প্রায় একটার দিকে মারুফ বলল
ভাইসাব এবারে মাংশ ধুয়ে একটু পানি দিয়ে সেদ্ধ দেন এখানকার মাংশ আমাদের দেশের মত না। এগুলি আগে সেদ্ধ করে রান্না করতে হয়।
একটু সেদ্ধ হলে মশলা দেখিয়ে বলল
চামচ নেন, এখান থেকে আমি যেমনে বলি তেমন পরিমান মশলা দেন, পিয়াজ নেন ওখান থেকে গরম মশলা তেজপাতা এগুলি দিয়ে এই চুলায় বসিয়ে দেন। সবসময় এই চুলাটা ব্যাবহার করবেন এটা ছোটতো তাই।
আচ্ছা মারুফ ভাই, আপনারা জয়ফল যৈত্রি ব্যাবহার করেন না?
না আমরা এখানে এগুলি করি না তবে আমি জানি ঢাকাইয়ারা মাংশে জয়ফল যৈত্রি দেয়। আচ্ছা যা যা বললাম তা মনে থাকবে?
হ্যা থাকতে পারে।

মনে আর কত থাকবে? তুমি তো জান না মারুফ আমার মনে কত বোঝা বয়ে বেরাই। এতো বোঝা মাথায় রেখে আর কত মনে রাখা যায়? এই যে কথায় কথায় ভুলে যাই আমি এমন ছিলাম না। আমার মা বাজার থেকে কখনো কিছু আনার কথা বললে সে কথা আমার এক মাস পরেও মনে থাকতো। বাজার থেকে নিয়ে আসতাম মা বলতেন বাব্বাহ সেই কবে বলেছিলাম এখনো মনে রেখেছিস কিন্তু এই দিন তো সেই দিন নয়। এখান থেকে শুনছি আর ওখানে যাবার আগেই ভুলে যাচ্ছি। এজন্যে যে কত বিরম্বনা হচ্ছে তা কাকে বলি? মাংশ রান্না হয়ে গেছে। এই ফাঁকে কিচেন ব্রাশ করা হয়েছে। মারুফকে দেখল ইফতারের জন্যে কাবলি ছোলা ভুনতে। সাড়ে চারশ গ্রামের ছোট টিনের মধ্যে সেদ্ধ কাবলি ছোলা এখানে যার নাম চিক পিজ। ফ্রাই প্যানে তেল পিয়াজ মশলা গরম করে তার মদ্ধ্যে দুইটা টিনের মুখ খুলে পানি ফেলে দিয়ে ছোলা ছেড়ে দিয়ে একটু নাড়াচারা করেই ছোলা ভুনা। মারুফ জিগ্যেস করেছিলো
ইফতারির জন্যে আর কিছু বানাবেন? আপনিতো খিচুরি খান না।
না আমি পারিই বা কি আর বানাবোই বা কি যা আছে এতেই চলবে। আচ্ছা এখানে তো বেসন আছে দেখলাম আপনারা অনিওন ভাজি বানান তা ওরকম করে কিছু পাকোরা বানানো যায় না?
হ্যা যাবে না কেন বানান সব কিছুইতো আছে যা লাগে নিয়ে নেন বানান নিজেও খান আমরাও খাই।
ঠিক আছে তবে আজ না কাল বানাবো কিন্তু কথা হলো আমারতো কোন আন্দাজ অনুমান নেই আমাকে এই লবণ টবন দিয়ে দিবেন।
আচ্ছা আচ্ছা তা দেয়া যাবে। বেশ কালই বানাবেন।

এখনকার মত কাজ শেষ এপ্রনটা খুলে তিন লিটারের একটা দুধের বোতল খালি হয়েছিল সেটা রেখে দিয়েছিল ওটা ভরে পানি নিয়ে উপরে চলে গেল।
আজ রাতে তেমন ভারি কিছু মনে হল না। গত দুই দিনের তুলনায় এ যেন কিছুই না। অনেক হালকা, বেশ নিরবে চলেছে সব কিছু। কোন হাঙ্গামা নেই, ভুল ভ্রান্তি নেই। হই চই চিতকার চেচামেচি কিছুই নেই। এর মধ্যে মালিকরা এসে গল্প করেছে অনেকক্ষণ। দেশের কি অবস্থা, রাজনিতীর অবস্থা কে্মন, লোকজন কেমন আছে এখানে কেমন লাগছে এইসব। এরকম হলেতো চলে কিন্তু তাই কি আর হয়? এভাবে চললে মালিকের ব্যাবসা হবে কি করে? এইযে এতো গুলো মানুষের বেতন দেয়া, তা মালিকরা তিন জন, বাইরের পাঁচ ছয় জন এদের বেতন, ইলেক্ট্রিক বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল, কাউন্সিল ট্যাক্স কত কি! নাহ তবুও এভাবে এই কাজ করা যাবে না সামনে যেতেই হবে। ডিউটি শেষ হয়ে আসছে এমন সময় আনোয়ার এসে বলল
ভাইসাব আপনার ফোন, যান উপরে যেয়ে ধরেন।
উপরে উঠে ফোন ধরতেই কাজলের কন্ঠ
কে, মামা?
হ্যা মামা, তা কি মনে করে নমবর কোথায় পেলে?
কেন ফিরোজ মামার থেকে নিয়েছি।
ও আচ্ছা, বল কি খবর!
না এমনিই, মামা বলল আপনার খোঁজ খবর কি কোথায় গেলেন কি করছেন জানার জন্যে তাই ফোন করলাম।
ঠিক আছে এইতো আসলাম। আজ মাত্র তিন দিন, এর মধ্যে গত দুই দিনের অবস্থা দেখে ভাবছিলাম এ কাজ আমাকে দিয়ে হবে না। তা আজ একটু সহজ মনে হচ্ছে।
মামা আসল কথা হোল প্রথম প্রথম একটু কষ্ট হবে তবে আপনি সামনে কাজ পেলেন না?
না পাইনি।

ঠিক আছে করতে থাকেন দেখা যাক আর কখন কোথায় থাকেন ঠিকানাটা অন্তত ফোন নম্বরটা জানাবেন। তাহলে রাখি মামা পরে আবার ফোন করব।
আচ্ছা ঠিক আছে।
ওহ ভালো কথা, কখনো দরকার হলে রাস্তার মোরে মোরে দেখবেন ফোন বক্স আছে সেখান থেকে ফোন করবেন বিশ পেনি লাগে।
আচ্ছা।
নিচে আসতেই সবাই এক সাথে বলল আপনে না বলেছেন আপনার কেউ নেই তাহলে এতো ফোন করে কে?
না এমনিই পরিচিত চেনা মানুষ।
কাজ কর্ম শেষ করে উপরে আসবে এমন সময় ওসমান দৌড়ে এসে বললো ভাইসাব একটু দাঁড়ান এই যে নেন এটা রাখেন।
কি এটা? এই, আপনে কাজ করলেন এই তিন দিনের পয়সা।
ও, মানে কি আমার কাজ ঠিক হচ্ছেনা তাই বিদায়?
আরে না না বিদায় কেন এটা আমাদের নিয়ম আমরা প্রতি রবিবারে যার যার বেতন দিয়ে দেই। এখানে আপনার সাথে জব সেন্টারে যে ভাবে কথা হয়েছিল সেই হিসাবে তিন দিনের পয়সা আছে।

ও তাই? তাহলে দেন। নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে বিসমিল্লা বলে টাকাটা পকেটে ভরে উপরে চলে এলো। এসেই আবার নিঃসঙ্গ একা। টাকাটা পকেট থেকে বের করে দেখলো। টাকা নয় পাউন্ড, পাউন্ড স্টার্লিং। রানির মাথার ছবি আকা ব্রিটিশ পাউন্ড বিশ্বের সবচেয়ে দামি নোট। যার এক পাউন্ডের মূল্য বর্তমানে বাংলাদেশের বিরানব্বই টাকা। হায়রে টাকা তোমার জন্যে আমাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে, আমাকে আমার মা মনিদেরকে ছেড়ে আসতে হয়েছে, আমার মনিকে আমাকে এখানে একা রেখে দেশে ফিরে যেতে হয়েছে। হাতে ধরে নোট গুলি বার বার নাড়া চাড়া করছেন। হায়রে অর্থ! তোমার মুল্য কত? মানুষের প্রেম মায়া মমতা ভালোবাসা এর চেয়ে কত বেশি, কত বেশি তোমার মুল্য?
[আরো অনেক দূরে যেতে হবে]

No comments:

Post a Comment

Thank you very much for your comments.