Monday, 3 December 2012

হল না মোর পটল তোলা এবার এই ঈদে

Potol
এইতো কয়েক দিন আগের কথা। তা গত ১০ই আগস্ট হবে মনে হয়, মানে ওই যেদিন ব্লগার্স ফোরামের ইফতার বিতরণের দিন ছিল। ব্লগে এই ইফতার বিতরণ এবং ইফতার পার্টির ঘোষণা দেখেই

কোন ভাবে নিজেকে সামলাতে পারছিলাম না। ভীষণ লোভ হচ্ছিল কবে যাব, কবে সবার সাথে দেখা হবে এবং সবার উপরে কবে এই সব দুস্থ পথ কলিদের সাথে নিয়ে এক সাথে ইফতার করব। গিন্নীর সাথে আলাপ পরামর্শ করতে করতে এক সময় সে একটু বিরক্ত হল। কোন পাঞ্জাবী গায়ে দিয়ে যাব পাঞ্জাবীর সাথে কোন টুপি মানাবে। টুপি মাথায় দিয়েই যাব নাকি পকেটে করে নিয়ে যাব! মাথায় দিয়ে গেলে সবাই কি কাঠ মোল্লা ভাববে? বাড়ি থেকে কখন বের হব, ইনসুলিন বাড়ি থেকে নিয়ে যাব না কি সাথে করে নিয়ে গিয়ে ওখানেই সময় মত নিয়ে নিব, একটু আগে যেতে পারলে সবার সাথে একটু বেশী সময় দিতে পারব কিছু আলাপ বেশী করা যাবে, আড্ডা হবে ষোল কলায় পরিপূর্ণ। ইত্যাদি নানান ভাবে নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম। সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে ওই দিনে যারা নিমন্ত্রণ করতে চেয়েছে সবাইকে বলে দিয়েছি “সেদিন আমার নিজের অনুষ্ঠান আছে“ কারো নিমন্ত্রণ রাখিনি।

আস্তে আস্তে কেলেন্ডারে ২০১২ সালের আগস্ট মাসের পাতায় যেদিন ১০ তারিখ এলো সেদিনের জন্য কোন কাজের বরাদ্দ রাখিনি শুধু বাড়ির দুই একটা ছোট খাট কাজ করে জুম্মা পরব তার একটু পরেই বের হয়ে যাব। বিজয় সরণীর মোড়ের এন্ট্রান্স রেস্টুরেন্ট আমার বাড়ি থেকে আর কতটুকই বা পথ। কাজের মধ্যে যেমন মেঝ মেয়েটার আলমারির তালা নষ্ট হয়ে গেছে বলে আলমারির পাল্লা বন্ধ করতে পারছে না আর ছুঁচো ইঁদুর ইচ্ছে মত আলমারিতে ঢুকে কয়েকটা কাপর কেটে ফেলেছে বলে ওর আলমারির তালাটা বদলে দেব, আর নিজের ঘরে দেয়ালের ঘড়িটা ঝুলানোর জায়গা বদলে দেব যাতে সকালে ঘুম ভাঙলে শুয়ে শুয়ে সময় দেখা যায়।

সকালে ঘুম থেকে একটু দেরিতে উঠে পাড়ার হার্ডওয়ারের দোকান থেকে একটা তালা কিনে আনলাম। হটাত কি মনে হল, না আগে ঘড়ির জায়গাটা ঠিক করে নিই পরে আলমারি ঠিক করব। রমজানের ছুটির দিন বলে বাড়িতে মেয়েরা সবাই ঘুমে, আমার বাবা ছাদে আর বেগম সাহেবা খাটে বসে জানালার দিকে ঘুরে কোরান পড়ছে। সে জানে যে আমি মেয়ের আলমারি ঠিক করব। ঘড়ির জায়গা বদলাব এ কথা তাকে বলিনি বলে সে জানে না।

গ্যারেজে রাখা টুল বক্স থেকে ড্রিল মেশিন, হাতুড়ি, প্লায়ার, রল প্লাগ, স্ক্রু এসব এনে ড্রেসিং টেবিলে নামিয়ে খালি পায়ে খালি গায়ে গিন্নীর পিছনে খাটের এ পাশে সুইচ বোর্ডের সাথে যেই ড্রিল মেশিনের প্লাগ ঢুকিয়ে সুইচ অন করেছি অমনি কেমন যেন একটা ভয়ংকর অচেনা অনুভূতি উপলব্ধি করলাম।
বাড়ির এই সব টুকি টাকি কাজ সেই ছোট বেলা থেকে নিজেই করি, যতটা প্রয়োজন ততটা সাবধানেই করি। তাছাড়া সেফটির বিষয়ে আমাদের নেভিগেশন স্কুলে একটা সাবজেক্ট ছিল। সে সব পড়েছি, অনেক প্রবন্ধ লিখেছি, অধস্তন কর্মচারীদের ট্রেনিং দিয়েছি এবং নিজেও যখন যেখানে যেমন সাবধানতা মেনে কাজ করতে হয় তার সব করি কিন্তু আজ কি করে যে এই ভাবে খালি পায়ে খালি গায়ে এমনকি ইলেকট্রিকের কাজের জন্য সেফটি গ্লোভসটাও হাতে না পরে এবং সাথে টেঁসটার না নিয়ে এই কাজ শুরু করলাম তা আমি কোন ভাবেই মেলাতে পারছি না। এই ভুল আমি কি ভাবে করলাম?

সে যাই হোক, একটু পরেই সামান্য চেতনা ফিরে এলো। দেখি আমি ফ্লোরে চিত হয়ে পরে রয়েছি আমার স্ত্রী আমাকে ধরে উঠাতে এসে যেই ধরেছে অমনি সেও এক শক খেয়ে আমার হাতে ঝুলন্ত ড্রিল মেশিন দেখে সাথে সাথে বুঝতে পারল এতো চেয়ার থেকে পরে যায়নি, এটা বৈদ্যুতিক শক। এদিকে আমিও দরজা আর ড্রেসিং টেবিলের মাঝে এমন ভাবে পরে রয়েছি যে আমাকে ডিঙ্গিয়ে ঘর থেকে বেরুতে পারছে না। অমনি সে চিৎকার করে তার সহকারিণী রেশমাকে ডাকতে শুরু করল আর ঘর থেকে বেড় হবার পথ খুঁজতে লাগল। রেশমা গ্যারেজ থেকে ওই সব টুলস বের করা পর্যন্ত আমার সাথেই ছিল, আমাকে এই ঘরে ঢুকতে দেখে রান্না ঘরে গিয়েছিল। ভেবেছিল ভাইয়া এখন আর মেঝ আন্টির আলমারি ঠিক করবে না, এ ঘর থেকে বের হলে তখন সাথে যাব।

আমার কিছু চেতনা ফিরে এসেছে। আমি বলছি ডাইনিং রুমে যে সাব ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড আছে ওটার সব সুইচ অফ কর আর সিঁড়ি ঘরের মেইন সুইচ অফ কর। রেশমা রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এসে আমাকে ওই ভাবে পরে থাকতে দেখে আমার স্ত্রীর মত আমাকে ধরে উঠাতে চেয়ে সেও এক শক খেয়ে ঘাবড়ে গেল। কি হয়েছে? ও ভাবি কি হয়েছে, ভাইয়া এখানে কেন? ওর ভাবি চিৎকার করতে করতে কি করে যেন ঘর থেকে বের হতে পারল।

এর মধ্যে আমি ভাবতে পারছি। নানা কিছু ভাবছি। মনে হচ্ছিল আমার চিন্তা প্রবাহ ঘণ্টায় লক্ষ মাইল বেগে চলছে। আমি ২২ বছরের ডায়াবেটিসের রুগী এবং এখন রোজা করছি স্বাভাবিক ভাবেই দুর্বল শরীর, এভাবে আমি কতক্ষণ থাকতে পারব? আমাকে শক্ত হতে হবে, দেখি আমার শ্বাস বইছে কি না, নাকে হাত দিয়ে দেখলাম স্বাভাবিক, বুকে হাত দিয়ে দেখলাম স্বাভাবিক আছে। ড্রিল মেশিনটা আমার ডান হাতে ঝুলছে এবং হাতটা স্টিল ফ্রেমের চেয়ারের পিছনে কেমনে যেন আটকে আছে। চেয়ারের একটা পা আমার বা পায়ে ছুঁয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে আছে বলে পাটা নাড়াতে পারছি না। ডান হাত মোটেই নাড়তে পারছি না। বা হাত দিয়ে ড্রিল মেশিনটা ছাড়াতে চাইলাম কিন্তু পারলাম না। বা হাতে বিদ্যুৎ চলে আসছে। ভাবতে পারছি যে একটা মোটা কাপড় পেলে মেশিনটা ছাড়াতে পারলে হয়ে যেত। ওদের চিৎকারে মেয়েরা জেগে উঠে এমন ভয়ংকর পরিস্থিতি দেখে হতবিহ্বল হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। বড় মেয়েটা আমাকে ধরে উঠাতে গিয়ে সেও এক শক খেল। আমি ওকে বলছি আমাকে ধরবে না কিন্তু বাবাকে এই ভাবে পরে থাকতে দেখে কেইবা মেনে নিতে পারে? ছোট মেয়ে এসেও তার একই অবস্থা। আমি বললাম আমাকে একটা মোটা কাপর দাও আমার ডান পাশেই একটা পাপোষ, খাটের পাশে পাপোষ, বিছানায় জায়নামাজ বিছানো যাতে বসে আমার স্ত্রী তেলাওয়াত করছিল আর ওই পাশেই একটা গায়ে দেয়ার কাঁথা। ও দিকে কারো দৃষ্টি যাচ্ছে না, ছোট মেয়েটা গলা থেকে ওড়না খুলে দিল। বাম হাতে ওড়না নিয়ে মেশিনটা ছাড়াবার চেষ্টা করলাম কিন্তু পাতলা ওড়না ২২০ ভোল্টের প্রবাহ ঠেকাতে পারল না।

আমি ভাবছি:
মনে হচ্ছে ওরা আমাকে বাচাতে পারছে না, আজ রোজা থেকে জুম্মার দিনে নামাজ না পরেই আমাকে নিয়ে যাবে আল্লাহ! একটু পরেই জুম্মার আজান দিবে, এতো সুখের মৃত্যু কিন্তু আমার স্ত্রীকে যেভাবে চিৎকার আর কান্না কাটি করতে দেখছি, আমার মেয়েরা যে ভাবে কাঁদছে আর ছোটা ছুটি করছে তাতে ওদের কি হবে? মেঝ আর ছোট মেয়ের এখনও যে পড়া লেখা শেষ হয়নি বিয়ে দিতে পারিনি ওদের কি হবে? বিদ্যুতায়িত মানুষ কি এতক্ষণ বেচে থাকতে পারে? যে রক্ত মাংসের দেহে ২২০ ভোল্ট ৪/৫ মিনিট ধরে অনবরত প্রবাহিত হচ্ছে সে কি বেচে থাকে? তাহলে কি আমি মরেই গেলাম? না! আমি কি তাহলে এখনও মরিনি? তাহলে আমার স্ত্রী সন্তানেরা এমন কাঁদছে কেন? খুকুর মা, তুমি কি এখনও মেইন সুইচটা অফ করে আমাকে বাঁচাতে পারলে না? মনে হচ্ছে সব কিছুই ঠিকঠাক ভাবতে পারছি তাহলে আমি উঠতে পারছি না কেন? কি হল?

ওদিকে আমার স্ত্রী, রেশমা এবং আমার মেঝ মেয়ে ডাইনিং রুমের সেই সাব ডিস্ট্রিবিউটারের সব সুইচ অফ করেছে সাথে আবার কাট আউট গুলিও খুলে নিয়েছে (আমিই শিখিয়েছিলাম যখন ইলেকট্রিক লাইনে কাজ করবে তখন মেইন কাট আউট খুলে পকেটে নিয়ে বা ভিন্ন কোথাও রেখে কাজ করবে যাতে অন্য কেউ না জেনে হটাত করে কাট আউট লাগিয়ে দিতে পার)
এর মধ্যে আব্বা নিচের এই চ্যাঁচামেচি শুনে নিচে এসে সিঁড়ি ঘরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করছে কি হয়েছে? আমার স্ত্রী বলছে মেইন সুইচ অফ করুন তাড়াতাড়ি।

কেন কি হয়েছে?
রেশমা মেইন সুইচ বোর্ডের ঢাকনা খুলে সুইচ অফ করে দিয়েছে কিন্তু আমার স্ত্রী ভিতরে ঢুকে দেখে তবুও ডাইনিং রুমের পাখা চলছে!!! একি! তাহলে এখন কি করব? হটাত করেই তার মনে হল আরে, সব কিছু অফ করলে কি হবে, সারা বাড়িতে যে IPS এর লাইন দেয়া রয়েছে। তাহলে ওটা থেকেই বিদ্যুৎ নিয়ে সব কিছু যেমন তেমন চলছে। দৌড়ে পাশের স্টাডিতে রাখা IPS এর সুইচ অফ করার সাথে সাথে সম্পূর্ণ বাড়ির বিদ্যুৎ অফ হল এবং আমি দেখলাম আমার হাতে লেগে থাকা ড্রিল মেশিনটা ছুটে পরে গেল।
এবার আমি উঠে দাঁড়ালাম। মেয়েরা সবাই এক সাথে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না! এই এতক্ষণ ধরে যার ভিতর দিয়ে চলছিল ২২০ ভোল্টের প্রবাহ সেই আমি যেন কিছুই হয়নি এমন ভাবে বললাম কি ব্যাপার তোমরা এমন করছ কেন? আজান দিয়েছে? গোসল করতে হবে নামাজে যাব। মেয়েদের পিছনে ওদের মা, রেশমা আর আব্বা দাঁড়িয়ে। শুনে মেয়েরা বলল
আব্বু কি বল তুমি? তোমার কি হয়েছিল জান?
কেন, কি হয়েছিল? হ্যাঁ এইতো ড্রিল মেশিনটা লিক ছিল বলে একটু শক লেগেছিল, এইতো আর কি?
আব্বু শোন।

বলেই ওদের মায়ের দিকে ঘুরে বলল আম্মু বল-
ওদের মায়ের বক্তব্য;
আমি জানি তুমি মাঝুর আলমারির তালা বদলাবে তাই তোমাকে বললাম রেশমাকে সাথে নিও আমি আর কয়েক রুকু পড়ে আসছি। হটাত তোমার কণ্ঠের বাবাগো চিৎকার আর তার সাথে ধপাস করে ভারী কিছু পরে যাবার শব্দ শুনে পিছনে তাকিয়ে দেখি তুমি দরজা আর ড্রেসিং টেবিলের পাশে চিত হয়ে কুকরিয়ে পরে রয়েছ পাশে চেয়ারটা পরে আছে। আমি কোরান শরিফ রেখে তোমাকে তোলার জন্য খাট থেকে নেমে যেই ধরেছি আর অমনি মনে হল কেউ যেন আমাকে টেনে ধরছে। তুমি বলছ মেইন সুইচ অফ কর, তোমার এই কথা আর টেনে ধরা বুঝে অনুমান করলাম এটা ইলেকট্রিকের ব্যাপার, তখন পাশে দেখি তোমার হাতে ড্রিল মেশিনটা ঝুলছে। এদিকে আমি যে রুম থেকে বের হব সে উপায় নেই, তুমি সম্পূর্ণ পথ জুরে রয়েছ। তখন রেশমাকে ডাকলাম ও এসে তোমাকে এই অবস্থায় দেখে আমার মত তোমাকে তুলতে গিয়ে আমার মত একই অবস্থা। এর মধ্যেই আমি কি করে যেন ফাঁক খুঁজে রুম থেকে বের হয়ে প্রথমে ডাইনিং রুমের বোর্ডের সব সুইচ অফ করে কাট আউট খুলে ফেলার পরেও দেখি ফ্যান চলছে তখন সিঁড়ির মেইন বোর্ডের সুইচ অফ আর কাট আউট খুলেও যখন দেখলাম ফ্যান চলছে তখন ভাবলাম আর বুঝি আমি তোমাকে বাঁচাতে পারলাম না। হটাত করেই মনে হল কে যেন কানে কানে বলল “বোকা IPS অফ কর”। ও হ্যাঁ তাইতো, ওটা দিয়ে যে পাওয়ার আসছে তা বন্ধ না হলে হবে না। দৌড়ে তাড়াতাড়ি ওটা অফ করতেই সব ডিসকানেক্ট হবার পর আল্লাহর রহমতে তুমি ছাড়া পেলে। মনে হল আল্লাহ তায়ালা নিজে কোন ফেরেশতাকে পাঠিয়ে আমার কানে ওই কথা বলিয়ে দিয়েছে।

ওদের মায়ের এই কথা শুনতে শুনতে আমি ক্লান্তি বোধ করছিলাম বলে বিছানার পাশে বসেছি কিন্তু কখন যে শুয়ে পরেছি জানি না। মেয়েরা আমার সমস্ত শরীর মেসেজ করে দিচ্ছে। মাঝু আবার নিউট্রিসনিস্ট, ও সমস্ত শরীর খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল কোথাও কোন মাংসপেশি শক্ত হয়ে আছে কি না। বড় মেয়ে ব্লাড প্রেশার, পালস রেট, ব্লাড ফ্লো আর সুগার দেখে নিয়ে আমার ফিজিশিয়ানকে ফোন করে জেনে নিল কি করতে হবে। জামাইকে সাথে সাথে দোকানে পাঠিয়ে ওষুধ আনিয়ে নিল। আমি এই কয়েক দিনে ডাক্তার দাউদের সাথে যে হৃদ্যতা হয়েছে সেই সুত্র ধরে তাকে জানাবার জন্য মেয়েদের বললাম আমার ফোনটা এনে দাও। ফোন করলাম কিন্তু কি বললাম না বললাম কিছু না বুঝে ফোনটা আমার গিন্নীর কাছে দিয়ে জড়ান কণ্ঠে বললাম কথা বল তোমার নাতির সাথে।
মেঝ মেয়ে এক গ্লাস গরম দুধ এনে বলল খেয়ে নাও সমস্ত শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেছে
আমি রোজা না?
হ্যাঁ রোজা আছ ঠিক আছে কিন্তু এখন এই দুধ খেলে রোজা ভাঙবে না, নাও খাও
বলে আমার মাথাটা দুই বোনে মিলে বালিশ থেকে উঠিয়ে ঠোটের কাছে গ্লাসটা ধরল আর আমিও কেমন যেন সম্মোহনের ঘোরে খেয়ে ফেললাম, এমনিতেও ভীষণ পিপাসা পাচ্ছিল কিন্তু রোজা আছি আবার ইফতারির অনুষ্ঠানে যাব বলে কিছু বলছিলাম না।

আব্বু তোমাকে আবার নতুন করে পেলাম আমরা!
হেয়ার ড্রাইয়ার আর ইস্ত্রি এনে তোয়ালে গরম করে আমাকে গরম রাখার চেষ্টা করছিল
ডাক্তার দাউদের সাথে কথা বলে আরও কার কার সাথে যেন কথা বলল, সবাইকে বলল দোয়া করতে বলবেন। পরে সম্পূর্ণ চেতনা ফিরে পাবার পর জানলাম শিবলি ভাই আর লুবনা আপাকে ফোন করে আমাদের ইফতারে যাওয়া হচ্ছে না এই কথা জানিয়ে দিলাম আর দোয়া করতে বললাম। এদিকে বড় মেয়েটাও দেশে বিদেশে সব আত্মীয় স্বজনদের কাছে এই সংবাদ পৌঁছাবার চেষ্টা করছে। এক ফাঁকে বলল আমি গত কয়েক দিন ধরে আব্বুকে নিয়ে নানান হাবিজাবি দুঃস্বপ্ন দেখছিলাম, মাঝুও তাই বলল এ কথা শুনে ওদের মাও একই কথা বলল। আমার বোন বলল আজ কেন যেন হটাত করে আমার হাত থেকে বালতি পরে ভেঙ্গে গেল। সময় হিসেব করে ও বলল হ্যাঁ ফুপি ঠিক একই সময়ে ঘটেছে এই ঘটনা। ইংল্যান্ডে ওদের সেঝ চাচী বলল তোমার চাচা আজ সেহেরী খেয়ে বলছিল আমার এমন অস্থির লাগছে কেন? ওদের এই সব কথা ঘোরের মধ্যে থেকে কিছু কিছু শুনছিলাম।

যে মানুষটাকে নিয়ে জীবনের সুদীর্ঘ ৩৬ টি বছর পার করে দিলাম এর মধ্যে কত ঈদ, আনন্দ দুঃখ কেটেছে কিন্তু কোন দিন যার মুখ থেকে এ কথা শুনিনি যে এবার ঈদে বা এই অনুষ্ঠানে আমাকে এটা ওটা কিনে দিবে। সেই মানুষ এবার রমজানের শুরু থেকেই বলছিল এবার আমাকে খুব দামী একটা শাড়ি দিবে আর শাড়ির সাথে ম্যাচ করে সব কিছু কিনে দিবে। আমি শুনে ভাবছিলাম এ কি শুনছি? জীবনে কোন যা শুনিনি! এত কাল প্রতিবার জিজ্ঞেস করে বরাবরের মত এক উত্তর পেয়ে আমার পছন্দ ও সাধ্য মত যা কিনেছি তাতেই খুশী দেখে অভ্যাস হয়ে গেছে কিন্তু সেই খুকুর মা এবার এমন করে কেন বলছে??? খুকুর মা কি আমার সাথে রসিকতা করছে! মনে কেমন যেন একটা খটকা লাগল। কেন এমন করে বলছে? এই কি তাহলে আমার শেষ দেয়া??? অবাক হয়ে শুনেছি। এইতো কয়েক দিন আগে বাজারে গিয়ে একটা VISA কার্ড হাতে দিয়ে বললাম তোমার যা ইচ্ছা দেখে পছন্দ করে নিয়ে চল, আনলিমিটেড। কিচ্ছু ভাববে না শুধু দেখবে পছন্দ করবে আর আর ট্রলিতে ভরবে দাম যাই হোক এই কার্ডে তা পরিশোধ করে দিবে আমি সই করে দিব চোখ বন্ধ করে। বড় জামাই শাড়ি দিয়েছে বলে শাড়ি কিনেনি।

শুধু এক জোড়া স্যান্ডেল আর একটা পাথরের কানের ফুল ব্যাস এই! আমি দেখে অবাক! কি ব্যাপার, শাড়ি??
শাড়ি দিয়ে কি করব?
অন্য কিছু?
অন্য আবার কি?
এ কয়দিন ধরে যে বললে!
যখন বলেছি তখন বলেছি, তাই বলে কি সত্যিই কিনতে হবে?
বাহ! নিজেই বললে আবার কি হল?
আরে না আমি এমনিই বলেছি চল, এই নাও কার্ড।
পকেট থেকে পেমেন্ট দিয়ে চলে এসেছি।
সে রাত কোন ভাবে কেটে গেল। সেহেরীতে ডাকেনি। সব টের পেলাম পরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গার পর। সমস্ত শরীরে ব্যথা আর যেখানে যেখানে আঘাত লেগেছে সে সব জায়গা নীল হয়ে গেছে। যে হাতে মেশিনটা ধরা ছিল ওই হাতে কেমন যেন আগুনে স্যাঁকা লাগা ভাব জ্বালা করছে, পরে যাবার সময় ড্রেসিং টেবিলের কোনায় লেগে ডান হাতের বাহুতে, ডান হিপ জয়েন্টের নিচে যেখানে ফ্লোরে পরেছিলাম সেখানে আর বা পায়ের হাঁটুতে কি করে যেন আঘাত লেগে নীল হয়ে আছে আর পরার ঝাঁকুনিতে কোমরে যে আঘাত লেগেছে তার ব্যথায় দাঁড়াতে পারছি না।

যখন সম্পূর্ণ চেতনা ফিরে পেলাম তখন ভাবলাম, ভেবে দেখলাম কেউ মানুক বা না মানুক এই পৃথিবীতে যত শক্তি আর ক্ষমতা আছে তার সব কিছুর একচ্ছত্র অধিপতি আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং। তিনি যখন যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। এই আমারই কত কি হতে পারত! ফাইনাল স্টেজে পটল তুলতে পারতাম, যে হাতে মেশিনটা ধরে ছিলাম সেটা পুরে যেতে পারত কিংবা সারা জীবনের জন্য অবশ হয়ে যেতে পারত, শরীরের ভিন্ন কোন অঙ্গ প্যারালাইজড হতে পারত, স্মরণ শক্তি বিলুপ্ত হতে পারত। কিন্তু কিছুই হয়নি। অর্থাৎ তিনি চাননি কিছু হোক। আলহামদুলিল্লাহ। বাড়িতে এখনও একটা আতংকের ঝর বইছে। কি হয়ে গেল! আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব আর পাড়া প্রতিবেশীরা এসে দেখে যাচ্ছে।
আজ একটু ভাল লাগছে, কোমরের ব্যাথাটা একটু কমেছে বলে এই লেখাটা যখন লিখছি তখন বিন্নি আপা ফোন করেছিল অবস্থা জানার জন্য।
সেদিন রাতে ডাক্তার দাউদ ফোন করেছিল কি অবস্থা, আমার মেয়েরা কথা বলেছে। আমি কাল কথা বলেছি।

আমার প্রিয় ভাই বোনদের কাছে বিনীত অনুরোধ আপনারা আমার এই পরিবারের সবার জন্য দোয়া করেন আমি জানি তবুও আবার বলছি এবার একটু বিশেষ দোয়া করবেন

৩৮ টি মন্তব্য (লেখকের ১৯টি) | ১৬ জন মন্তব্যকারী

  1. ডা. দাউদ : ১৪-০৮-২০১২ | ১:৪৪ |
    Delete
    শোকর আলহামদুলিল্লাহ!
    আসলে বিপদ আর মৃত্যু যা কিনা জীবনের ঘনিষ্ট তম শব্দ
    এতো কাছে থাকে যে আল্লাহর রহমতের ছায়াটা একটু নড়ছড় হলেই
    সেই ভূকম্পন অনুভব করা যায়।
    যা কিছু ঘটেছে তার জন্য সতর্কতা এখন থেকে সকলে
    আর যা ঘটেনই তার জন্য গভীর শোকরিয়া মহান প্রভুর নিকট
    স্রষ্টার রহমতের ছায়ায় সকলের জিবন অতিবাহিত হোক।
    দোয়া ও ভালোবাসা সবার জন্য

  2. ছন্দ হিন্দোল : ১৪-০৮-২০১২ | ৬:১৬ |
    Delete
    আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর বিরাট মেহেরবানি ।অসুষ্হ শুনছিলাম, এখন কেমন আছেন।
    আল্লাহ আপনাকে আপনার পরিবার আমাদের কে তাঁর্ অসীম রহমতের ছায়াতলে আশ্রয় দেন কায়মনে দোয়া করি ।
    আমীন।

  3. বিষণ্ণময়ী : ১৪-০৮-২০১২ | ১৪:১৬ |
    Delete
    সকালে বাসায় পড়েছি কিন্তু মন্তব্য করিনি, মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল আপনি এইভাবে কেনো ভাবছেন বিষয়টা। এটা একটা অসর্তকতার জন্য দূর্ঘটনা কিন্তু তাই বলে জীবনের শেষ দিন কেমন করে ভেবে নিলেন। রাখে আল্লাহ মারে কে কথাটা মনে রাখবেন। যেদিন ডাক আসবে সেদিন কোন উছিলাই দেখবেন আসেনি এমনি চলে যাবেন । কিন্তু সেটা যখন যাবার তখন সে শুধু আপনার নয় আমাদের সবাইকেই যেতে হবে।
    ভাবী সেদিন ফোন করে আপনার কথা বলার পরে শুনলাম ভাবীর কান্নার আওয়াজ তখনই অনুমান করে নিয়েছি ছোটখাটো নয় বড় দূর্ঘটনাই ঘটেছে।
    এই দূর্ঘটনা কিন্তু আল্লাহর ইশারা মানুষের প্রতি যে তোমরা সর্তক হয়ে কাজ করো। আপনার সাথে আরো যারা এই বিষয়টা জানছেন সবাই সর্তক হবেন।
    আরেকটা কথা জানের বদলে জান দেয়ার নিয়ম আমাদের ধর্মেই আছে। পাররে একটা ছদকা দিয়ে দিন। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মহান দেখে আপনাকে নতুন জীবন দান করেছেন। আল্লাহর অনেক অনেক শুকরিয়া।
    নিজের প্রতি খেয়াল রাখুন যত্নবান হোন। সবাইকে নিয়ে অনেক অনেক ভাল থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

    • নীল নক্ষত্র : ১৪-০৮-২০১২ | ১৪:৩১ |
      Delete
      আপনজনকে ধন্যবাদ দেয়ার প্রয়োজন হয় না।
      না দিদি আমি খুব আনন্দিত যে আমার কথা আল্লাহ তাআলা শুনেছেন,
      এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে যেতে মন নাহি চায়।
      ওই দিনে মেয়েরা তাদের মেঝ চাচাকে ফোনে পাচ্ছিলনা, আমার সেঝ ভাই ফোনে মেঝ ভাইকে জানিয়েছে। রাতে ওই ফোন করেছিল, মেয়েদের সাথে কথা হয়েছে। ও বলছিল সেদিন সকালে জনৈক ইসলামি চিন্তাবিদের একই ভাবে তরিতাহত হয়ে মৃত্যুর সংবাদ জেনেছে কিন্তু তখন ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি যে তার নিজের ভাই এই মূহুর্তে যুদ্ধ করছে। সেও মেয়েদের বলে দিয়েছে আপনার একই কথা-
      আরেকটা কথা জানের বদলে জান দেয়ার নিয়ম আমাদের ধর্মেই আছে। পাররে একটা ছদকা দিয়ে দিন। আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মহান দেখে আপনাকে নতুন জীবন দান করেছেন। আল্লাহর অনেক অনেক শুকরিয়া।
      আপনার ভাবী আমাদের এলাকার কসাইকে বলেছে একটা খাসী এনে দিতে, কাল হয়ত পাবে, পেলে আমাদের মসজিদের মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দিয়ে দিবে।
      ভাই সাহেবকে জানিয়েছেন? দোয়া করতে বলবেন তাকেও।

    • বিষণ্ণময়ী : ১৪-০৮-২০১২ | ১৫:৫৯ |
      Delete
      জামান আপনার পোষ্ট সকালেই পড়েছে। আর সেদিন ভাবীর ফোন রাখার সাথে সাথেই তাকে জানিয়েছে। ছদকা দিচ্ছেন খুব ভাল কাজ।
      আর দোয়া অবশ্যই করি সবাইকে নিয়ে যেনো আল্লাহ ভাল রাখেন।

    • নীল নক্ষত্র : ১৪-০৮-২০১২ | ১৮:১৫ |
      Delete
      আপনারাও ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আল্লাহ তাআলার রহমতের ছায়া আপনাদের উপরেও আচ্ছাদিত হয়ে থাকুক।

  4. নাজমুল হুদা : ১৪-০৮-২০১২ | ২২:০৮ |
    Delete
    এই অবস্থা!! সেদিন অসুস্থতার জন্য ইফতার পার্টিতে যেতে পারেননি তা জানতে পেরেছিলাম ঐ সংক্রান্ত পোষ্ট পড়ে, কিন্তু অবস্থা যে এতটা আশঙ্কাজনক তা কল্পনাও করতে পারিনি। সামান্য অসর্কতা কেমন করে মৃত্যু ডেকে আনতে পারে, আপনার এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ! আমিও এ সব টুকটাক কাজ নিজে করি, আমার জন্য আপনার এই পোষ্ট এক দারুন সতর্কবার্তা।
    এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুতের সংস্পর্শে থেকেও যে বেঁচে উঠেছেন এতে বিস্মিতই হতে হয়! একেবারে সাক্ষাৎ মৃত্যুর কবল থেকে ফিরে এসেছেন। বলতেই হয় ‘শুভ প্রত্যাবর্তন’!
    কথা বলতে ইচ্ছা করছিল, কিন্তু আপনার ফোন নম্বর হারিয়ে ফেলেছি (এমন হয় না সাধারণত, কিন্তু কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছি না!)।
    আশা করি, দ্রুতই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
    ভালো থাকুন।

  5. নীল নক্ষত্র : ১৪-০৮-২০১২ | ২২:৪৮ |
    Delete
    বিপদ যখন আসে তখন এভাবেই আসে, তার জলজ্যান্ত প্রমান নিজেকে দিয়েই দেখলাম।
    আমার মেয়েরা আমাকে বাধ্যতামূলক আবসর দিয়ে দিয়েছে! মাকে বলেছে আব্বুকে আর এই সব ঘরের কোন সমস্যার কথা বলবে না!
    সবই আনন্দের কথা কিন্তু চোরে কি আর ধম্মের কথা শোনে? সব কাজকর্ম বন্ধ হলে আমি কি করে সময় কাটাব?
    আপনারাও ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন। আল্লাহ তাআলার রহমতের ছায়া আপনাদের উপরেও আচ্ছাদিত হয়ে থাকুক।
    ঘুমিয়ে পরেছেন কিনা তাই আজ আর কল দিলাম না কাল দিনে দেব ইনশাল্লাহ। আমারু কেন যেন আপনার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হচ্ছে।

  6. জুলিয়ান সিদ্দিকী : ১৪-০৮-২০১২ | ২৩:১২ |
    Delete
    ভাইজান, এখন আর দোয়ার দরকার নাই। আমার মনে হয় স্রষ্টা আমার সঙ্গে আপনারে দেখা করাবেন। আর হ্যাঁ এইটা আপনার একটা পরিবর্তন। আপনার সৃজনী ক্ষমতাকে জাগিয়ে দেওয়ার জন্য এমন করা হয়েছে। আমি অবাক হয়েছি, আপনিও হবেন, যে পড়বে এই পোস্ট সেই অবাক হবেন যে, এমন গুছানো আর পরিমিত লেখা আপনার উপন্যাসেও নাই।
    তাই দোয়ার বদলে বলি কি আপনি খালিদ ওমর নামে লেখালেখি করেন। নিক পালটান। এই নামে আরো কেউ থাকলে (গুগুল সার্চ করে দেখে নেন) সঙ্গে কিছু একটা যোগ করে নেন। শুরু হোক আপনার জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়- যা সৃষ্টিশীতা দিয়ে ভরা থাকবে। এবং দোয়া করি লাইফের সেকেন্ড পার্ট-এর জন্য, ভালো থাকেন, নিরাপদ থাকেন।

    • নীল নক্ষত্র : ১৪-০৮-২০১২ | ২৩:২৭ |
      Delete
      ভাইজান, আপনার সহৃদয় বাণি আমাকে আপ্লুত করিয়াছে ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। আমি নিজেও এই নিকের বিষয়টা ভাবিয়াছি কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে আসিতে পারিতেছি না। তবে আমার লেখনির কিছু পরিবর্তন আসিয়াছে তাহা ইতমধ্যেই অনুভব করিয়াছি। নিচের এই কথা কয়টি আমাকে গভীর ভাবে আলোরিত করিয়াছে। আশা করি এমন যেন হয়।
      আমার মনে হয় স্রষ্টা আমার সঙ্গে আপনারে দেখা করাবেন। আর হ্যাঁ এইটা আপনার একটা পরিবর্তন। আপনার সৃজনী ক্ষমতাকে জাগিয়ে দেওয়ার জন্য এমন করা হয়েছে।

  7. জুলিয়ান সিদ্দিকী : ১৪-০৮-২০১২ | ২৩:৫৯ |
    Delete
    ভাইজান, আমি যে আপনারে মাহবুব আলী, নাজমুল হুদা ভাইরে ভাইজান ডাকি সেইটা কি উপলব্ধি করেন? আমি সত্যিই ভাইজান (সম্পর্কের সম্বোধনের একটা উঁচু সামাজিক ও মানবিক স্তর) মনে করি।
    নিকের ব্যাপারটা সঞ্চালক বরাবর বার্তা বা ই-মেইল করেও অনুরোধ পাঠাতে পারেন। আশা করি সঞ্চালক তা ঠিক করে দেবেন।
    অনেক অনেক শুভ কামনা থাকলো ভাইডি।

  8. আজমান আন্দালিব : ১৭-০৮-২০১২ | ১৬:৪৭ |
    Delete
    রুদ্ধশ্বাসে পড়লাম। মনে হচ্ছিল ইলেক্ট্রিক শক খাওয়া কারও অভিজ্ঞতার কথা বাস্তবে দৃশ্যমান দেখছি। আপনার এই অভিজ্ঞতার সাথে আমার জঅবনের একটি ঘটনা শেয়ার করছি…
    চবি’র হলে আমার রুমে একটি ইলেক্ট্রিক হিটার ছিল। শখের বশে মাঝে মাঝে ভাত, আলু ভর্তা, ডাল রান্না করে খেতাম। একদিন হিটারে কিছু একটা রান্না করা অবস্থায় হিটারটি বন্ধ হয়ে গেল। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই সাবধানতার সাথে কাজ করেছি। কিন্তু ঐদিন যে কি হয়েছিল বুঝতে পারিনি। আমি প্লাগ থেকে সকেটটি বের না করেই হিটারের তারটি ঠিক আছে কিনা দেখতে গেলাম। যেই হাত দিয়েছি হিটারের সাথে সংযুক্ত তারে, প্রচণ্ড এক শক খেয়ে ২ হাত দূরে ফ্লোরে পড়ে গেলাম। তিন দিন ব্যথা ছিল সেই ঝাঁকুনির।
    সেদিন জিওগ্রাফি চ্যানেলে একটি ডকুমেন্ট দেখেছিলাম। এ লোকের শরীরে হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ তার হাতের আঙুল দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। আপনার শরীরে ৪/৫ মিনিট বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়েছে জেনে আমার সেই দৃশ্য মনে পড়ল। আল্লাহ সহায় ছিলেন বলেই হয়তো বিপদ কাটিয়ে উঠেছেন।
    ভালো থাকুন নিরন্তর। অগ্রিম ঈদ মোবারক।

  9. ফকির আবদুল মালেক : ১৭-০৮-২০১২ | ১৯:৪২ |
    Delete
    পোষ্টটি দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল।
    পোষ্ট পড়ে আমার আর কিছু বলার রইল না, শুধু বলে উঠলাম… আলহামদুলিল্লাহ।
    আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। আমিন।

  10. দীপক সাহা : ১৭-০৮-২০১২ | ২২:০৫ |
    Delete
    আপনার পোষ্ট আবারও পড়তে পারছি দেখে ভাল লাগছে খুব। মহান সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন।

  11. আফরোজা হক : ৩০-০৮-২০১২ | ১৬:০৪ |
    Delete
    এতো কিছু ঘটে গেলো, অথচ আমি কিছুই জানি না!
    আল্লাহ্‌কে অনেক ধন্যবাদ যে তিনি আমার দাদাভাইকে
    কেড়ে নেননি।
    আপনার পরিবারের সকলের জন্য দোয়া রইলো, সহি-সালামতে থাকুন।

  12. আ,শ,ম,এরশাদ : ৩০-০৮-২০১২ | ১৬:১২ |
    Delete
    পটল কেবল তোলা হয়েছে ,খাওয়া হয়নি। Smile
    এ যাত্রা বাঁচার জন্য অসংখ্য শুকরিয়া। আসলেই দেখি বড় বিপদ ছিল।

  13. সাইক্লোন : ৩০-০৮-২০১২ | ১৬:১৩ |
    Delete
    পটল ক্ষেতে গিয়েই তো পটল তুলতে হবে …… অন্য ক্ষেতে গেল তো আর হবে না, মহান আল্লাহ পাকের কাছে শুকরিয়া তিনি আপনাকে সুস্থ রেখেছেন।
    ভালো থাকবেন Smile

  14. ছায়েদা আলী : ১০-১০-২০১২ | ৬:৪৮ |
    Delete
    ভয়ংকর সময় পাড় করেছে আপনার পরিবার ! আমি সে দিনের সে ঘটনা যেন চোখের সামনেই দেখতে পেলাম Shock !!
    আল্লাহ সব সময় আমাদের সহায় হোক ।
    ভালো থাকুন । সব সময় সজাগ থাকুন ।

No comments:

Post a Comment

Thank you very much for your comments.