Saturday, 24 November 2012

শ্বেতপদ্ম



উতসর্গঃ যাদের রক্তের বিনিময়ে আজ নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিতে পারছি সেই মহান যোদ্ধাদের জন্য।
ভুমিকা- ১৯৭১ সাল, ১৬ই ডিসেম্বর বিকেল ৪টা। স্থান- মানিকগঞ্জের অদূরে ঝিটকার পাশে আমার নিজ গ্রাম। সারাদিন অপেক্ষায় রয়েছি কখন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র খুলবে আর এম আর

[ছবিঃ ইন্টারনেট]
আক্তার মুকুলের কণ্ঠে চরম পত্র শুনব। এই ফাঁকে আকাশ বাণি কলিকাতা থেকে প্রচারিত বাংলাদেশের খবর শুনছি। হঠাৎ শুনলাম পাকি সেনারা ঢাকায় মিত্রবাহিনীর কাছে আত্ম সমর্পণ করেছে। নিজের কানে স্পস্ট শুনেছি, কোন সন্দেহ নেই। জয় বাংলা বলে চিৎকার দিয়েই দৌড় দিলাম ঝিটকা বাজারের পথে। নতুন দেশের নতুন পতাকা কিনে এনে বাড়িতে ওড়ান হবে। সারা বাড়ির লোক পিছন থেকে জিজ্ঞেস করছে কোথায় যাচ্ছিস? ড্যাম কেয়ার! আমি এখন স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ। ঝিটকা বাজারে পৌঁছে দেখি আমার মত অনেকে এর মধ্যে পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে। এই যাহ! আনন্দের আতিশয্যে টাকা আনা হয়নি। কি হয়েছে তাতে? এক চাচার (পরে যিনি আমার শ্বশুর) দোকানে গিয়ে সরাসরি দুইটা টাকা চাইলাম। কি করবি টাকা দিয়ে? বীরের মত নির্ভয়ে বললাম পতাকা কিনব! ও! বলে ক্যাস বাক্স খুলে পাঁচ টাকার একটা নোট হাতে দিয়ে বললেন দুই টাকা দিয়ে বড় পতাকা কিনবি আর তিন টাকার রসগোল্লা কিনে নিয়ে যাবি।
সমস্ত বিশ্ব জুরে যে যেখানে আছেন সবাইকে আজকের এই মহান বিজয় দিবসের অনন্ত শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার বিবেচনায় দেশের জন্য লেখা আমার সেরা লেখাটা আজ আমার সুপ্রিয় পাঠকদের জন্য তুলে দিলাম।
নিশিদিন পরে মনে
তাল নারকেল সুপারি বনে
অনুরাগে ডাকে আকাশ ধরনী
হেমন্ত ছড়ায় শিশির মাখা চাঁদনী
দিঘীর জলে ঝিকিমিকি ঢেউ করে ছোটাছুটি।

সারিতে সাজানো আমড়া পেয়ারা মটর সুটি
আল ধরে চলে ছোট্ট শিশু গুটিগুটি।
কোয়েলা কোকিলা কাজরী গায় শোনে বনানী
কি মায়া ছড়াল পাথের ধারে শিরিষ মেহগিনি।

হর্তুকি হিজল হরিদ্রা বনের হাতছানি
দেখে জুড়ায় আমার এ শূণ্য বুক খানি।
জীবনটা হয় যেখানে শ্বেত পদ্ম কবিতা
সে দেশের মাটি যে আমার মনমিতা।
সুদীর্ঘ দশটি বছর পর বিগত বছর থেকে নিজ দেশে এই মহান দিবস উদযাপন করতে পারছি বলে পরম করুণাময়ের প্রতি শোকর জানাচ্ছি। বিগত বছর গুলিতে হৃদয়ের আনাচে কানাচে জমে থাকা দেশাত্মবোধ আমাকে সর্বক্ষণ অনুপ্রাণিত করেছে, আমাকে দিয়েছে বেচে থাকার শক্তি। তাই সবার কাছে আমার বিনিত অনুরোধ, নিজ দেশকে যে কোন কিছুর চেয়ে অধিক ভালবাসুন, বাংলাকে ভালবাসুন। নিজেকে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে গর্ব বোধ করুন। আমি যেমন করেছি।

জীবনের অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে থাকা কালিন পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে যেখানেই গিয়েছি নিজেকে বাংলাদেশি বলে পরিচয় দিয়েছি। আমার দেশ, আমার ভাষা সম্পর্কে যতটুকু বলার সুযোগ পেয়েছি বলেছি। বোঝাবার চেষ্টা করেছি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের ইতিহাস। আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের এই অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশ হিসেবে পরিচিত করার জন্য কিছু রেখে যাই।  
ধন্যবাদ

No comments:

Post a Comment

Thank you very much for your comments.