Tuesday, 9 March 2010

কি করি আজ ভেবে না পাই

বিগত প্রায় মাস খানিক যাবত কি যে হয়েছে কিছু বুঝতে পারছি না। কিছুই লিখতে ইচ্ছে করে না। লিখা শুরু করলেই মনটা ভিন্ন কোন দিকে চলে যায়। হয়ত কোন ছবি এডিট করি আবার সেটা ছেড়ে কোন গান এডিট করি আবার সেটা
ছেড়ে কাউকে একটা চিঠি লিখলাম কিছুক্ষণ আবার সেটা শেষ না করেই অন্য কিছুতে মন চলে গেল। হয়তোবা ওয়েব থেকে ওয়েবে উদ্দেশ্য হিন ভাবে এলেমেলো পায়চারি করে আবার কোথা থেকে কোথায় যাই কি করি কিছুই ঠিক নেই। এক্কে বারে অকাজের, কোন দিকে যা কোন কাজেই আসে না শুধু শুধু সময় নষ্ট করা।

কি হয়েছে?নিজেকে প্রশ্ন করি কিন্তু কোন জবাব পাই না। কি হলে এমন হয়?না তাতেও কোন জবাব নেই। এদিকে কত লেখা লেখির কাজ পরে রয়েছে। জানছি দেখছি, বুঝছি এগুলি আমাকেই করতে হবে কিন্তু ওই যা হবার তাই। পাতা খুলে বসে কোন মতে বিষয়টা লিখা হতে না হতেই মন হঠাত্ করে জানালা দিয়ে বাইরে লাফ দিয়ে চলে যায়। আচ্ছা ঠিক আছে যাবি যা, তা একটু বলে কয়ে গেলে কি হয়?না তা হবে না। এদিকে কী বোর্ডের ওই যে ওই কীটা যার নাম জানি না যেটা দিয়ে ক্যাপ লক করে তার নিচের টা। ওই কীতে সাঙ্ঘাতিক ভাবে ডিস্টার্ব করছে। “শালিক” লিখতে চেয়ে চেপে যাই লেখা শেষ করে দেখি “সালিক” হয়ে রয়েছে। লিখে গেলাম দীর্ঘ ঈ কার দিয়ে হয়ে যায় হ্রস্ব ই কার, লিখি ট হয়ে যায় ত কি যে বিরক্তিকর। কী চেপে যাই কিন্তু লেখা ওই রকম হয়। আমার কি দোষ?আমি তো চেপেছি, ওঠেনি কেন?আবার পুরো লেখা মেরামত কর। এমনিতেই লিখতে মন চায় না তারপর আবার উটকো ঝামেলা কত ক্ষন সহ্য করা যায়?লেখা বাদ দিয়ে চলে গেলাম মেইল দেখতে, অথচ এই একটু আগে মেইল দেখে গেলাম, আমি কি এমন কোন বিখ্যাত অজগর সাপ না কি কোন নাচুনে বুড়ো যে মানুষে আমার কাছে মিনিটে হাজার দুই মেইল পাঠাবে, আমার একটা বাণী পাবার জন্য না খেয়ে মেইল বক্স খুলে বসে থাকবে?

এই যে মনে হল সেদিন কোথায় যেন দেখলাম তাসলিমা নাসরিনকে নিয়ে ভারতের এক বিখ্যাত লেখিকা কি সব লিখেছে, পড়িনি, পরার মত প্রবৃত্তি হয়নি। আরে কোথায় অরুন্ধতী রায় আর কোথায় তাসলিমা, আগরতলা আর চৌকির তলার সাথে যার তুলনা করা যায়। মনে হয় অরুন্ধতী রায়ের ইদানিং কাজকর্ম কিছু কমে গেছে না হলে আমার মত মতি বিভ্রাট ঘটেছে তা না হলে লেখার মত আর কাওকে পেল না! এটা নিয়ে ভাবলাম কয়েক দিন। যে কিনা নারী হয়ে নারীর মর্যাদা রাখতে পারেনি নারীকে ঘৃণ্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যাকে নারী বলে মেনে নিতে মন চায় না তার জন্য এত কি! এ ও কিছু ভেবে পেলাম না। তাকে ভদ্র মহিলা বলতে ইচ্ছা করে না কিন্তু নিজের মনে কলুষতা প্রবেশ করতে দিতে চাই না তাই বলা। আরে বাবা ভাল ছাত্রী ছিলে ভাল ডাক্তারী করছিলে তাই করতে। ডাক্তারি করেও নারী অধিকার আন্দোলন করা সম্ভব। তা না করে রাতারাতি বিখ্যাত হবার জন্য এমন সব কাজকর্ম করে বসল যে শেষ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে পালিয়ে জীবন বাচাতে হোল। কেনরে বাবা কুপথে যাবার এমন কি প্রয়োজন ছিল। নিজেকে বিকিয়ে সন্মানিত নারী জাতির কলঙ্ক ছড়াল যে এই এমন একটা চরিত্রের জন্য অমন মানুষের হাতে কলম ধরা!! কি জানি এ আবার কোন ধারা। যাক আমার মাথায় এখন গোল চলছে বলে হয়ত এমন করে ভাবছি। কই এত দিনত ভাবিনি।

আমার প্রিয় গান “সাম্যের গান গাই, আমার চক্ষে পুরুষ রমনী কোন ভেদা ভেদ নাই” যে নারী না হলে এই শ্যামল পৃথিবী বিরান হয়ে যেত, যে নারী না হলে কোন কালেই কোন পুরুষের তরবারি জয়ী হতে পারত না, যে নারী আপন মহিমায় চির দিন সম্মানের সর্বোচ্চ শিখরে অধিষ্ঠিত বলে জেনে এসেছি, যে নারীর সেবা দিয়ে মমতা দিয়ে মরুতে গড়েছে পুষ্প বিতান, যে নারীর গর্ভে জন্মেছি, যে নারীর বুকে পৃথিবীর সকল প্রাণীর খাদ্য ভান্ডার সঞ্চিত রয়েছে, যে নারী সর্ব সেরা সম্বোধন ‘মা’ নামে পরিচিত, প্রায় অধিকাংশ ভাষায় এই মা সম্বোধনে ম অক্ষর জড়িত, যে নারীর কষ্টে নিজে কষ্ট পেয়েছি। পুরুষ শাসিত সমাজে নারীর প্রতি নির্যাতনে ধিক্কার দিয়েছি। এইতো কিছু দিন আগে লন্ডনে এবং তুরস্কে মা বাবা এবং পরিবারের অন্যান্য সব সদস্য মিলে তাদের পরিবারের মর্যাদা রক্ষার জন্য এক মেয়েকে জবাই করেছে এবং আর এক মেয়েকে হাত পা বেধে জীবিত মাটিতে পুতে রেখেছে এই সংবাদ জানার পর থেকে এখনো আমি চমকে উঠি সেই আমি কিনা আজ এই লিখে ফেললাম! না এ বিষয়ে আর না।

যাকগে, যে যাই করুক তাতে তার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে ও নিয়ে আমার মাথা ঘামাবার মত এত সময় বা ইছা কোনোটাই নেই। আমার নিজের কি হয়েছে তাই বুঝতে পারছি না। এই গবেষনা করতেই ৫/৭টা লেবরেটরি খুলে ফেলেছি। হয়, মাঝে মাঝে আমার এমন হয় আবার দূরে কোথাও থেকে কদিন ঘুরে এলে সব ঠিক হয়ে যায়। এইতো কিছু দিন আগে গ্লস্টারে ভাইয়ের বাসায় থেকে এলাম বেশ কয়েক দিন। এখন আবার যাই কোথায়, কিছুই ভেবে পাচ্ছি না, ছুটিও পাবার উপায় নেই। এক মহা ঝামেলায় পরলাম। ভাবনার আয়নাতে খুঁজেও কিছু পাচ্ছি না, ধুলো জমে ঝাপসা হয়ে গেছে ভেবে মুছে নিলাম তবুও কিছু পেলাম না।

এর মধ্যে মেইল পেলাম বিশিষ্ট ব্লগ লেখিকা ব্লগ জগতে বিচরন কারি সকলের প্রিয় ব্যক্তিত্ব ফ্লোরেন্স রিয়া এক দুর্ঘটনায় কোমরের হাড়ে ফ্র্যাকচার হয়ে বিছানায় আশ্রয় নিয়েছে। মেইলটা পেয়ে মনটা আরো বেশি চঞ্চল হয়ে গেল। কি করি, তাকে কিছু সান্ত্বনা জানিয়ে এবং সাবধানে থাকার অনুরোধ জানিয়ে একটা মেইল পাঠিয়ে দিলাম। আবার জিন্নাতুল হাসানের একটা মেইলে জানলাম তার ব্লগ বাংলাদেশের অধিক পঠিত ব্লগের মধ্যে ৯৫তম স্থানে অবস্থান করছে। জেনে জিন্নাতকে অভিনন্দন বার্তা দিয়ে মেইল পাঠালাম। আমি আগামী জুন মাসের আগে লন্ডন যেতে পারব না কাজেই তুমি আমার এখানে আস মিষ্টি খাইয়ে দিই, নয়ত বল ডাকে পাঠিয়ে দিই, যদিও আমার এখানে লন্ডনের মত ভাল মানের মিষ্টি নেই।

কি সব আবোল তাবোল বকছি কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছি তাই না?তবে আমার যত দূর বিশ্বাস হেমায়েতপুর বা রাঁচিতে যেতে হবে না। এইতো এই হোল আমার মনের অবস্থা। কি করি আজ ভেবে না পাই পথ হারিয়ে কোন বনে যাই, সারাক্ষণ ঠাকুর দাদার এই কথাটা গুন গুন করি। যদি এ লেখা কেউ পড়ে দেখেন তাহলে দয়া করে উত্তরণের একটা পথ জানাতে পারেন। সাদরে গৃহিত হবে সাথে উপহার হিসেবে কয়েক লক্ষ বা দাবী অনুযায়ী ধন্যবাদ দেয়া হবে।

2 comments:

  1. এইতো নালেখার কথা নিয়ে কত কথা লিখে নিলেন! তসলিমা যাক জাহান্নামে! ও বেচারির এখন যাবার জায়গা নেই। ভারতে ঠাই পাবার জন্যে ভিক্ষে করছে, মনে হয় না পাবে। স্বাধীনতা ততক্ষণ যতক্ষণ তা অন্যের স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ না করে, অতো রীতিমতো অন্যের সম্মান রক্ষার স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ করে। মানুষের সমস্ত আন্দোলনকে ও বিরোধীতা করে। সাধরণ মানুষের মধ্যে ওর কোনো কাজ নেই। হ্যাঁ, ফ্লোরেন্স রিয়া দুর্ঘটনার কথা শুনে আমার খারাপ লাগছে। ফেসবুকে জিজ্ঞেস করেছি, কী হয়েছিল। এখনো জবাব পাই নি। বোধহয় সে অবস্থাতে নেই!

    ReplyDelete
  2. হ্যা, তোমার কথা মত চেষ্টা করে দেখলাম। আসলে ঘুমের অভাবে এমন হয়েছিল এরোর কথা মত এক ঘুমেই বেশ অনেকটা ভাল বোধ করছি।
    সবাই ভাল থেকো।

    ReplyDelete

Thank you very much for your comments.